কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

‘ক’ দেশটি সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত। সেখানে সারা বছর তাপমাত্রা ২৪° সে. থেকে ৩২° সে.-এর মধ্যে থাকে এবং বাতাস সবসময় আর্দ্র থাকে। ‘খ’ দেশটি মহাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত। সেখানে শীতকালে তাপমাত্রা ২° সে. এবং গ্রীষ্মকালে ৪০° সে. পর্যন্ত ওঠে। দুই দেশেরই কৃষকরা ধান চাষ করতে আগ্রহী।

  1. ক)

    ব্যষ্টিক জলবায়ু কী?

    (1)
  2. খ)

    চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ‘ক’ দেশের জলবায়ু কোন ধরনের? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ‘ক’ দেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো ধান চাষে কীভাবে ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অতি ক্ষুদ্র পরিসরের জলবায়ু, যেমন— একটি গাছ, পাতা এমনকি পত্ররন্ধ্রের চারপাশের জলবায়ুকে ব্যষ্টিক বা মাইক্রো জলবায়ু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে জলবায়ুতে বিভিন্ন ঋতুতে তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, তাকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। এখানে গ্রীষ্মকালে অত্যধিক গরম এবং শীতকালে অত্যধিক ঠান্ডা অনুভূত হয়। সাধারণত মহাদেশের অভ্যন্তরে সমুদ্র থেকে দূরে এ ধরনের জলবায়ু দেখা যায়। ফলে এ জলবায়ুতে ফসল উৎপাদনের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ক’ দেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন ও সামুদ্রিক ধরনের এবং আর্দ্র প্রকৃতির।

    দেশটি সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় সামুদ্রিক জলবায়ু বিরাজ করছে। দিনে স্থলভাগ সহজে উত্তপ্ত হয় এবং রাতে সহজে শীতল হয়, কিন্তু সমুদ্রের পানি ততটা গরম বা ঠান্ডা হয় না। বায়ুচাপের এই পার্থক্যের কারণে বিকেলে শীতল সমুদ্রবায়ু এবং শেষ রাতে ও সকালে স্থলবায়ু প্রবাহিত হয়। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা চরমে উঠতে পারে না এবং সারা বছর ২৪° থেকে ৩২° সে.-এর মধ্যে থাকে, তাই জলবায়ু সমভাবাপন্ন। এছাড়া সারা বছর বায়ু আর্দ্র থাকায় আর্দ্র জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যও প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ক’ দেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, সামুদ্রিক ও আর্দ্র প্রকৃতির। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ধান চাষে নিম্নলিখিতভাবে ভূমিকা রাখবে—

    ১. আর্দ্রতা: ধান ফসল স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্র আবহাওয়ায় প্রচুর জন্মে। ‘ক’ দেশের বায়ু সবসময় আর্দ্র থাকায় উদ্ভিদের পানির চাহিদা পূরণে বায়ুর আর্দ্রতা সহায়তা করবে এবং ফসলের বৃদ্ধি, পরিপক্কতা ও দানা গঠন ভালো হবে।

    ২. তাপমাত্রা: গ্রীষ্মকালীন ফসল (আউশ ধান) ২৩.৮° থেকে ২৯.৪° সে. মাসিক গড় তাপমাত্রায় সর্বাধিক ফলন দেয়। ‘ক’ দেশে সারা বছর তাপমাত্রা ২৪° থেকে ৩২° সে.-এর মধ্যে স্থিতিশীল থাকে, যা এই সীমার কাছাকাছি। তীব্র শীত বা প্রচণ্ড গরম না থাকায় ধানের বৃদ্ধি ব্যাহত হবে না এবং বছরে একাধিকবার ধান চাষ করা সম্ভব হবে।

    ৩. সামুদ্রিক প্রভাব: সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর কারণে তাপমাত্রা চরমে ওঠে না এবং বায়ুতে জলীয় বাষ্প ও বৃষ্টিপাত বেশি থাকে, ফলে সেচের চাহিদা কমে।

    তবে অত্যধিক আর্দ্রতা পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের বিস্তারে সাহায্য করে, তাই কৃষকদের রোগ-পোকা দমনে সতর্ক থাকতে হবে।

    সামগ্রিকভাবে ‘ক’ দেশের জলবায়ু ধান চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। অন্যদিকে ‘খ’ দেশে ২° সে. থেকে ৪০° সে. পর্যন্ত তাপমাত্রার ব্যাপক ওঠানামা ধান চাষের জন্য প্রতিকূল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও