জীববিজ্ঞান • রেচন প্রক্রিয়া

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

কৃষক করিম গ্রীষ্মকালে সারাদিন রোদে কাজ করেন। তখন তিনি প্রচুর ঘামেন এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ কম ও গাঢ় হয়। শীতকালে ঘাম কম হয় এবং তিনি বেশি পানি পান করেন, তখন তার প্রস্রাব বেশি পরিমাণে ও হালকা হয়। উভয় ঋতুতেই করিমের দেহের ভেতরের অভিস্রবণ চাপ প্রায় একই থাকে। সম্প্রতি করিমের এক প্রতিবেশীর বৃক্ক অকেজো হয়ে যাওয়ায় তার চোখ-মুখসহ সারা শরীর ফুলে গেছে।

  1. ক)

    অসমোরেগুলেশন কী?

    (1)
  2. খ)

    মূত্রের মাধ্যমেই দেহ থেকে সবচেয়ে বেশি পানি বের হয়, তবু বৃক্ক দেহের পানির সমতা বজায় রাখতে পারে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে করিমের প্রতিবেশীর শরীর ফুলে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের গ্রীষ্ম ও শীত উভয় ঋতুতে করিমের দেহের অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কারণ মূল্যায়ন করো। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি পান করা কি ঠিক? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবদেহে পানি ও লবণের পরিমাণ ও ঘনত্ব এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া, যাতে দেহভ্যন্তরে অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, এই প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বা পানিসাম্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নেফ্রনের গ্লোমেরুলাসে রক্ত থেকে বর্জ্য, পানি ও অন্যান্য তরল পদার্থ পরিস্রুত হয়। এরপর রেনাল টিউবিউলে পুনঃশোষণ প্রক্রিয়ায় দেহের প্রয়োজনীয় পানি আবার রক্তে ফিরে যায়। দেহে পানির প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃশোষণের পরিমাণ কম-বেশি হয়। ফলে বৃক্ক দেহের পানিসাম্য বজায় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতিবেশীর বৃক্ক অকেজো হয়ে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য মূত্রের সাথে বের করে দিয়ে দেহের পানিসাম্য রক্ষা করে। বৃক্ক অকার্যকর হলে এই কাজ ব্যাহত হয়, ফলে অতিরিক্ত পানি দেহ থেকে বের হতে পারে না এবং দেহে জমতে থাকে। এ কারণে চোখ-মুখসহ সারা শরীর ফুলে যায়। এমনকি উচ্চ রক্তচাপও সৃষ্টি হতে পারে। এগুলো প্রকৃতপক্ষে অসমোরেগুলেশনজনিত ত্রুটির লক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রীষ্মকালে ঘামের মাধ্যমে করিমের দেহ থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়। তখন দেহে পানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বৃক্ক নেফ্রনের রেনাল টিউবিউলে পানির বেশি অংশ পুনঃশোষণ করে রক্তে ফিরিয়ে দেয়। ফলে মূত্রে পানি কম যায় এবং মূত্র কম পরিমাণে ও গাঢ় হয়। শীতকালে ঘাম কম হয় ও বেশি পানি পান করা হয়। তখন বৃক্ক অতিরিক্ত পানি মূত্রের সাথে বের করে দেয়, তাই মূত্র বেশি পরিমাণে ও হালকা হয়। এভাবে পানির ঘনত্ব নিয়ন্ত্রিত হয় বলে উভয় ঋতুতে অভিস্রবণ চাপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। এটি বৃক্কের অসমোরেগুলেশনের ফল।
    অতিরিক্ত পানি পানের বিষয়ে আমার মত হলো, প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করা ঠিক নয়। পানি পানের স্বাভাবিক মাত্রা ব্যক্তি, কাজের ধরন ও আবহাওয়াভেদে ভিন্ন হয়। কোনো ঋতুতেই বাড়তি পানি পান না করে পিপাসা পেলে পানি পান করা উচিত। এতে বৃক্কের ওপর অনাবশ্যক চাপ পড়ে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও