বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
ইতিহাস শিক্ষক রফিক সাহেব ছাত্রদের একটি ঘটনাপঞ্জি দেখালেন। তাতে লেখা ছিল: ‘১৭ মার্চ – দুই সামরিক কর্মকর্তা মিলে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেন। ২৫ মার্চ রাতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগী গোপনে ঢাকা ছেড়ে যান, তারপরই নিরস্ত্র মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু হয়। ২৬ মার্চ – চট্টগ্রামের একটি বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। ১০ এপ্রিল – নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন।’ তিনি বললেন, ‘এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।’
- ক)(1)
পাকিস্তানি বাহিনী ২৫শে মার্চের হত্যাযজ্ঞ কোন নামে পরিচালনা করেছিল?
- খ)(2)
২৫শে মার্চের রাতকে ‘কালরাত্রি’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ১৭ মার্চের পরিকল্পনা ও ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্টের গোপনে ঢাকা ত্যাগের আলোকে ২৫শে মার্চের আগে ঢাকায় পাকিস্তানি শাসকদের আলোচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিক্ষকের মন্তব্য ‘এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়’ – ঘটনাপঞ্জির আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তানি বাহিনী ২৫শে মার্চের গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচালনা করেছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালায়। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আক্রমণ করে বহু মানুষকে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড বিরল। তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রাতকে ‘কালরাত্রি’ বলা হয় এবং দিনটি এখন ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ১৭ মার্চের পরিকল্পনাটি হলো টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলীর তৈরি ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নীল নকশা। ৭ই মার্চের পর পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন, ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। বাইরে তাঁরা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনার কথা বললেও আসল উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
গোপন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে তাঁরা সময় নিচ্ছিলেন। এই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ আলোচনা ছিল বাঙালিকে ভুলিয়ে রেখে আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার কৌশল। উদ্দীপকে ২৫শে মার্চ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগী (ইয়াহিয়া ও ভুট্টো) গোপনে ঢাকা ত্যাগ করার পরই আক্রমণ শুরু হওয়া প্রমাণ করে, আলোচনা ছিল প্রতারণামাত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের মন্তব্য যথার্থ। ঘটনাপঞ্জির প্রতিটি ধাপ স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়েছে।
১. আক্রমণ ও প্রতিরোধ: ২৫শে মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হলে বাঙালিরা রুখে দাঁড়ায়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় পাকিস্তানি সশস্ত্র সেনাদের সাথে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের অসম লড়াই, যা মহান মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত।
২. স্বাধীনতার ঘোষণা: ২৬শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২৭শে মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও ঘোষণা দেন। এতে জনগণ যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
৩. সরকার গঠন: ১০ই এপ্রিল ১৯৭০-এর নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়। ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. পরিণতি: এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পায়।
সুতরাং আক্রমণের প্রতিরোধ, স্বাধীনতার ঘোষণা ও সরকার গঠন—এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর মাধ্যমেই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা সূচিত হয়েছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও