জীববিজ্ঞান • দৃঢ়তা প্রদান ও চলন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

৬৫ বছর বয়সী রহিম সাহেবের হাত ও হাঁটুর গিঁটগুলো ফুলে গেছে। গিঁটে ব্যথা হয় এবং নাড়াতে খুব কষ্ট হয়। একজন প্রতিবেশী তাঁকে নিজের ব্যবহৃত বাতের ওষুধ খেতে বললেন, আর তিনি সেটি খেতে শুরু করেন। একই সময়ে তাঁর ১২ বছরের নাতি তিতাসের হাঁটুর গিঁটে ব্যথা ও জ্বর হলে চিকিৎসক বললেন, এটি অন্য ধরনের রোগ, তাই চিকিৎসাও আলাদা।

  1. ক)

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কী?

    (1)
  2. খ)

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাতের চিকিৎসা করা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রহিম সাহেবের রোগটির লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম সাহেব ও তিতাসের রোগের লক্ষণ আপাতদৃষ্টিতে একই রকম হলেও চিকিৎসা আলাদা— বিশ্লেষণ করো। রহিম সাহেবের উপশমের জন্য তোমার করণীয় পরামর্শ দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ ও ব্যথা সৃষ্টিকারী যে বাতরোগ সাধারণত বয়স্কদের হয়, তাকে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাতরোগ শতাধিক প্রকারের হয়। অস্থিসন্ধির অসুখের প্রকারভেদ অনুসারে চিকিৎসার পার্থক্য হয়। দুজন ব্যক্তি ভিন্ন প্রকার অস্থিসন্ধির অসুখে আক্রান্ত হলেও তাদের লক্ষণ আপাতদৃষ্টিতে একই রকম হতে পারে। কিন্তু তাদের ভিন্ন চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা করলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেব রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাতে আক্রান্ত। এ রোগের লক্ষণগুলো নিম্নরূপ: ১. অস্থিসন্ধি বা গিঁটে প্রদাহ ও ব্যথা হয়। উদ্দীপকে তাঁর গিঁটে ব্যথার কথা বলা হয়েছে। ২. অস্থিসন্ধিগুলো শক্ত হয়ে যায়। ৩. অস্থিসন্ধি নাড়াতে কষ্ট হয়। রহিম সাহেবের নাড়াতে কষ্টের মধ্যে এটি স্পষ্ট। ৪. গিঁট ফুলে যায়। উদ্দীপকে তাঁর হাত ও হাঁটুর গিঁট ফুলে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের লক্ষণগুলোর সাথে এ রোগের লক্ষণ মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিম সাহেব বয়স্ক, তাই তিনি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত। কম বয়সী ছেলেমেয়েদের গিঁটে ব্যথা বা যন্ত্রণা হলে তা রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বরের মতো অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে। তিতাসের জ্বরসহ হাঁটুর ব্যথা সেই ধরনের রোগের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষণ: দুটি ভিন্ন অস্থিসন্ধির অসুখের লক্ষণ আপাতদৃষ্টিতে একরকম হতে পারে, কিন্তু রোগের প্রকৃতি ও কারণ আলাদা। ফলে একজনের ওষুধ অন্যজনের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই রহিম সাহেবের প্রতিবেশীর ওষুধ খাওয়া ভুল হয়েছে, কারণ এতে উপকারের চেয়ে অপকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগের প্রকার নির্ণয় করেই চিকিৎসা করা উচিত। পরামর্শ: বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ রোগ পুরোপুরি সারে না, তবে কিছুটা উপশম সম্ভব। রহিম সাহেবের উচিত: ১. অত্যধিক পরিশ্রম ও ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা। ২. ব্যথাযুক্ত গিঁটের ওপর কুসুম গরম সেঁক নেওয়া। ৩. অস্থিসন্ধির নাড়াচাড়া ঠিক রাখতে হালকা ব্যায়াম করা। ৪. চিকিৎসকের পরামর্শমতো বেদনানাশক ওষুধ সেবন করা। প্রতিরোধের জন্য সুষম ও আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও