সহপাঠ • বহিপীর

সহপাঠ প্রশ্ন

বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সপ্তাহে ফাহিম বাংলা নাটকের একটি সময়রেখা তৈরি করেছে। তাতে আছে ১৭৯৫ সালে ‘কাল্পনিক সংবদল’, ১৮৫৯ সালে ‘শর্মিষ্ঠা’, ১৮৬০ সালে ‘নীল দর্পণ’, ১৮৭৩ সালে ‘জমীদার দর্পণ’ ও ১৯১২ সালে ‘ডাকঘর’। শিক্ষক সময়রেখা দেখে বললেন, ‘প্রথম নাটক ও দ্বিতীয় নাটকের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য আছে এবং পরের নাটকগুলোর মাধ্যমে বাংলা নাটক ক্রমে সমৃদ্ধ হয়েছে।’

  1. ক)

    কলকাতায় প্রথম মঞ্চনাটকের আয়োজক লেবেদেফ কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    বাংলা নাটকের ইতিহাসকে হাজার বছরের পুরোনো বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সময়রেখার প্রথম ও দ্বিতীয় নাটকের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সময়রেখার ১৮৫৯ থেকে ১৯১২ সালের নাটকগুলোর মাধ্যমে বাংলা নাটক ক্রমে সমৃদ্ধ হয়েছে।”— শিক্ষকের এই মন্তব্যের যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কলকাতায় প্রথম মঞ্চনাটকের আয়োজক হেরাসিম স্তেপানোভিচ লেবেদেফ ছিলেন একজন রাশিয়ান নাগরিক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদে নাটক অভিনীত হওয়ার উল্লেখ রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চর্যাপদ নৃত্য ও অভিনয়সহ বৌদ্ধ মন্দিরে পরিবেশিত হতো। এছাড়া আমাদের যাত্রাপালার ঐতিহ্যও বেশ পুরোনো। এসব কারণে বাংলা নাটকের ইতিহাসকে হাজার বছরের পুরোনো বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সময়রেখার প্রথম নাটক ‘কাল্পনিক সংবদল’ (১৭৯৫) এবং দ্বিতীয় নাটক ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯)। ‘কাল্পনিক সংবদল’ মৌলিক নাটক নয়; রাশিয়ান নাগরিক লেবেদেফ ইংরেজি নাটক ‘দ্য ডিসগাইজ’-কে বাংলায় রূপান্তর করে কলকাতায় মঞ্চস্থ করেছিলেন। এতে তাঁকে অনুবাদে সাহায্য করেন গোলকনাথ দাস। লেবেদেফ চলে যাওয়ার পর মঞ্চনাটকে ছেদ পড়ে। অন্যদিকে ‘শর্মিষ্ঠা’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত মৌলিক নাটক। তিনি পাশ্চাত্য নাট্যরীতি অনুসরণ করে এটি লেখেন এবং এটিই বাংলা ভাষায় প্রথম আধুনিক নাটক। অর্থাৎ প্রথমটি বিদেশি নাটকের রূপান্তর, দ্বিতীয়টি বাংলায় রচিত প্রথম আধুনিক মৌলিক নাটক; এখানেই তাদের প্রকৃতিগত পার্থক্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষকের মন্তব্যটি যথার্থ। ১৮৫৯ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন নাট্যকারের অবদানে বাংলা নাটক বৈচিত্র্য ও পরিণতি লাভ করেছে। ১. মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৫৯ সালে ‘শর্মিষ্ঠা’ লিখে আধুনিক নাটকের সূচনা করেন। এরপর তিনি ‘পদ্মাবতী’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ ও ‘একেই কি বলে সভ্যতা’-র মতো নাটক ও প্রহসন রচনা করেন। ২. দীনবন্ধু মিত্র ‘নীল দর্পণ’ (১৮৬০)-এর পাশাপাশি ‘নবীন তপস্বিনী’, ‘লীলাবতী’, ‘সধবার একাদশী’ প্রভৃতি রচনা করে নাট্যধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। ৩. মীর মশাররফ হোসেন ‘জমীদার দর্পণ’ (১৮৭৩) ও ‘বসন্ত কুমারী’ রচনা করে এ ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। ৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ডাকঘর’ (১৯১২), ‘রক্তকরবী’, ‘চিরকুমার সভা’, ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ প্রভৃতি বিচিত্র ধারার নাটক রচনা করে বাংলা নাট্যসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এভাবে প্রতিটি নাট্যকার নিজ নিজ অবদানে বাংলা নাটককে নতুন স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। অতএব, মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও