বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
শহর ক্লাবের কমিটিতে ক্রমাগত অবহেলিত হওয়ায় নদীপাড়ের তরুণরা ‘তরুণ মুসলিম সংঘ’ নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলে। সংঘ তাদের এলাকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, স্থানীয় পাটশিল্পের সুরক্ষা এবং কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টনের দাবি জানায়। এসব কর্মসূচির কারণে সংঘ দ্রুত এলাকাবাসীর প্রিয় হয়ে ওঠে। কিছুকাল পর সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিতে সংঘ নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়।
- ক)(1)
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সংঘ গঠনের প্রেক্ষাপট পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সংঘের কর্মসূচি এবং আওয়ামী মুসলিম লীগের কর্মসূচির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে দেখাও কীভাবে এ ধরনের কর্মসূচি একটি সংগঠনকে জনপ্রিয় করে তোলে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আওয়ামী মুসলিম লীগ শুরু থেকেই বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু নামের সঙ্গে ‘মুসলিম’ থাকায় অন্য ধর্মের বাঙালিরা পুরোপুরি সম্পৃক্ত হতে পারছিল না। দলের অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য ১৯৫৫ সালে নাম বদলে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ রাখা হয়। এর ফলে ধর্ম পরিচয় নির্বিশেষে সকল বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তরুণরা শহর ক্লাবে অবহেলিত হয়ে নতুন সংঘ গঠন করেছিল। আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের প্রেক্ষাপটও ছিল এমনই বঞ্চনা।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্য শুরু হয়। ফলে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানে বাঙালিদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। এই প্রেক্ষাপটে পূর্ববাংলার প্রগতিশীল ও গণমানুষের নেতৃত্বে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
উদ্দীপকে শহর ক্লাব যেমন নদীপাড়ের তরুণদের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে, তেমনি কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ বাঙালিদের উপেক্ষা করেছিল। উভয় ক্ষেত্রেই বঞ্চিত অংশ নিজেদের স্বার্থরক্ষায় নতুন সংগঠন গড়ে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সংঘ নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, পাটশিল্পের সুরক্ষা ও কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টনের দাবি তুলেছে। আওয়ামী মুসলিম লীগের কর্মসূচির মধ্যেও এসব দাবি ছিল।
দলটি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও জনগণের সার্বভৌমত্বের দাবি তোলে, যার সঙ্গে সংঘের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার দাবি মেলে। পাট ও চা শিল্প জাতীয়করণের দাবি সংঘের পাটশিল্প সুরক্ষার দাবির অনুরূপ। বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি ব্যবস্থা উচ্ছেদ, কৃষকদের মধ্যে ভূমিবণ্টন ও সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদের দাবি কৃষকের জমি বণ্টনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া দলটি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানায়।
এসব কর্মসূচি সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও বঞ্চিত বাঙালির বাস্তব সমস্যার সমাধান তুলে ধরায় দলটি দ্রুত পূর্ববাংলার জনগণের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের সংঘও এলাকার মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক কর্মসূচির কারণে জনপ্রিয় হয়েছে। পরে নাম থেকে ‘মুসলিম’ বাদ দেওয়ায় দুটি সংগঠনই সকল ধর্মের মানুষকে যুক্ত করার সুযোগ পায়। অতএব, জনস্বার্থভিত্তিক কর্মসূচি ও অসাম্প্রদায়িক অবস্থান একটি সংগঠনের জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও