সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

অন্ধ আবদুল জব্বার সাহেবের বয়স আশি। রাতে তাঁকে কয়েকবার বাইরে যেতে হয়। তাঁর ছোট ছেলে রনি প্রতিবারই ঘুম থেকে উঠে ধৈর্য ধরে বাবার হাত ধরে নিয়ে যায়, কখনো বিরক্তি প্রকাশ করে না। বাবা অস্বস্তি বোধ করলে সে বলে, 'আব্বা, আপনি আমাদের জন্য কম কষ্ট করেননি।' জব্বার সাহেব তাই বার্ধক্যের কষ্টের মধ্যেও নিজেকে অসহায় মনে করেন না।

  1. ক)

    মীর আলির বড়ো ছেলের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'বুড়ো হওয়ার অনেক যন্ত্রণা!'- মীর আলি এ কথা কেন ভেবেছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রনির আচরণ থেকে বদিউজ্জামানের আচরণের পার্থক্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    'উদ্দীপকের জব্বার সাহেব ও মীর আলির শারীরিক অবস্থা একই রকম হলেও তাঁদের মানসিক অবস্থা ভিন্ন।'- মীর আলির অসহায়ত্বের স্বরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মন্তব্যটি যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মীর আলির বড়ো ছেলের নাম বদিউজ্জামান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মীর আলির বয়স প্রায় সত্তর, সে চোখে দেখে না এবং শব্দ সহ্য করতে পারে না। সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা হলো রাতদুপুরে বাইরে যাওয়ার সময় তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। ছেলে বা ছেলের বউকে ডাকতে হয়, কখনো ডেকেও সাড়া মেলে না। এভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তাকে লজ্জা ও কষ্ট দেয়। তাই সে বুড়ো হওয়াকে অনেক যন্ত্রণার বিষয় মনে করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রনি বাবার প্রতি ধৈর্যশীল ও শ্রদ্ধাশীল, আর '১৯৭১' উপন্যাসের বদিউজ্জামান বাবার প্রতি বিরক্ত ও অধৈর্য।

    রনি প্রতিবার ঘুম থেকে উঠে বাবাকে হাত ধরে বাইরে নিয়ে যায় এবং কখনো বিরক্তি দেখায় না। অন্যদিকে মীর আলি ডাকলে বদিউজ্জামান সহজে সাড়া দেয় না। সাড়া দিলেও বলে, 'এক রাইতে কয়বার বাইরে যাইবেন?', 'যত ঝামেলা!' সে বাবাকে ঘরের মধ্যে পাতিলে প্রস্রাব করতে এবং পানি কম খেতে বলে। উঠোনে বাবাকে বসিয়ে রেখে সে ভেতরে চলে যায়, আর আসে না। এভাবে রনির সহানুভূতির বিপরীতে বদিউজ্জামানের আচরণে অবহেলা ও বিরক্তি ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের জব্বার সাহেব অন্ধ ও বৃদ্ধ, মীর আলিও অন্ধ ও প্রায় সত্তর বছর বয়সী। দুজনকেই রাতে বাইরে যেতে অন্যের সাহায্য নিতে হয়।

    উদ্দীপকে ছেলে রনির ধৈর্য ও ভালোবাসা জব্বার সাহেবকে নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করায়। তাই তিনি অসহায় বোধ করেন না। কিন্তু মীর আলি ডাকলে ছেলে সাড়া দেয় না, ছেলের বউ অনুফা কুপি হাতে এসে হাত ধরলেও মীর আলির খুব লজ্জা লাগে। অপেক্ষা করতে করতে তার বিছানাতেই প্রস্রাব হয়ে যায়, যা আগে কখনো হয়নি; এতে সে বিচলিত হয়। বদিউজ্জামানের ধমক, 'পাতিলে পেশাব করবেন' আর 'পানি কম খাইবেন' শুনে সে 'খুব দুর্বল ও অসহায়' বোধ করে। এমনকি 'আইচ্ছা' বলে সে বাধ্য ছেলের মতো সবকিছু মেনে নেয়।

    এ থেকে স্পষ্ট হয়, শারীরিক অসুবিধা একই হলেও পরিবারের আচরণই মানুষের মানসিক অবস্থা নির্ধারণ করে। জব্বার সাহেব স্নেহে নিশ্চিন্ত, আর মীর আলি অবহেলায় অসহায়। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও