সাহিত্য পাঠ • ঐকতান

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কবি হাসান গ্রামে থেকে কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন। তাঁর কবিতায় ঘামে ভেজা কৃষকের দুঃখ-সুখ জীবন্ত হয়ে ওঠে। কৃষকেরা তাঁকে নিজেদের লোক বলেই মানে। কিন্তু তাঁর কবিতায় গ্রামের তাঁতি, জেলে বা কামারের জীবনের কথা প্রায় নেই। একবার এক সাহিত্য-সমালোচক বলেন, “হাসান একটি শ্রেণির কবি, সব মানুষের কবি হয়ে উঠতে তাঁকে আরও পথ হাঁটতে হবে।”

  1. ক)

    কবি নিজেকে কীসের কবি বলেছেন?

    (1)
  2. খ)

    “আমার কবিতা, জানি আমি, গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বগামী।”— কবি এ কথা বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    ‘ঐকতান’ কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ এবং উদ্দীপকের কবি হাসানের জীবনযাপন ও সাহিত্যচর্চার মধ্যে প্রধান পার্থক্যটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ঐকতান বহু সুরের মিলন, একটি সুরের নয়।”— এই ভাবনার আলোকে উদ্দীপকের সমালোচকের মন্তব্যটি কতটা যুক্তিযুক্ত তা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি নিজেকে পৃথিবীর কবি বলেছেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনের শেষপ্রান্তে নিজের সাহিত্যসাধনার হিসাব করতে গিয়ে বুঝেছেন, তাঁর কবিতা বহু বিচিত্র বিষয় ও পথে অগ্রসর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও অখ্যাত মানুষের জীবন তাঁর কবিতায় যথাযথভাবে স্থান পায়নি। কবি অকপটে নিজের এই অপূর্ণতা স্বীকার করেছেন। তাই তিনি বলেছেন, তাঁর কবিতা সর্বগামী হয়নি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ঐকতান’ কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ নিজের সম্পর্কে স্বীকার করেছেন যে তিনি সমাজের উচ্চ মঞ্চে সংকীর্ণ বাতায়নে বসে জীবনকে দেখেছেন এবং কৃষাণ বা শ্রমজীবী মানুষের জীবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। অন্যদিকে উদ্দীপকের কবি হাসান গ্রামে থেকে কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করেন, তাদের জীবনের শরিক হন। ফলে তাঁর কবিতায় কৃষকের দুঃখ-সুখ জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং কৃষকেরা তাঁকে আপনজন মনে করে। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো, রবীন্দ্রনাথের জীবনযাত্রার বেড়া তাঁকে জনজীবন থেকে দূরে রেখেছিল; হাসান সেই বেড়া ভেঙে মাটির কাছাকাছি থেকেছেন। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ নিজের অপূর্ণতার কথা স্বীকার করেছেন, আর হাসান প্রত্যক্ষ জীবনসংযোগের মাধ্যমে সৃষ্টিতে সত্যতা অর্জন করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমালোচকের মন্তব্যটি ‘ঐকতান’ কবিতার ভাবনার আলোকে যুক্তিযুক্ত। ‘ঐকতান’ শব্দের অর্থ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে সৃষ্ট সমস্বর। রবীন্দ্রনাথ কবিতায় সাহিত্যকে এমন এক সংগীতসভা হিসেবে দেখেছেন, যেখানে চাষি, তাঁতি, জেলে সহ সমাজের সব স্তরের মানুষের জীবন ও বাণী স্থান পাবে। তিনি বলেছেন, এদের বিচিত্র কর্মভারের ওপরই সমস্ত সংসার ভর দিয়ে আছে এবং একতারা যাদের, তারাও যেন সম্মান পায়। উদ্দীপকে হাসান কৃষকের জীবনের শরিক হয়ে মাটির কাছাকাছি থেকেছেন, ফলে তাঁর কবিতায় কৃষকের দুঃখ-সুখ জীবন্ত হয়েছে। এটি কবির কাঙ্ক্ষিত জনসম্পৃক্ততার দিক। কিন্তু তাঁর কবিতায় তাঁতি, জেলে বা কামারের জীবন প্রায় অনুপস্থিত। এতে ঐকতানের একটি সুরই বাজছে, অন্য সুরগুলো নীরব। তাই সমালোচক হাসানকে একটি শ্রেণির কবি বলেছেন। সুতরাং বিষয়ের ব্যাপ্তি না থাকায় হাসানকে সব মানুষের কবি বলা যায় না; সমালোচকের মন্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও