সমাজকর্ম ১ম পত্র • সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা এবং সমাজকর্ম

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

সাবিনা এইচএসসি পাস করে গ্রামের মেয়েদের জন্য একটি সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করতে চায়। গ্রামের কিছু মুরব্বি বলেন, 'মেয়েদের বেশি পড়ালেখার দরকার নেই, ঘরকন্নাই যথেষ্ট।' একই গ্রামের পথশিশু কবির ও শারীরিক প্রতিবন্ধী লিজা অর্থাভাব ও অবহেলার কারণে কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না।

  1. ক)

    জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ কয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাগুলো জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর কোন কোন লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নারী শিক্ষার প্রসার সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখে- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর আলোকে সাবিনার উদ্যোগ থেকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ শিক্ষার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদ ৩০টি নির্ধারণ করা হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এর অর্থ হলো শিক্ষাকে ব্যবসা বা মুনাফা অর্জনের উপায় না বানিয়ে একে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা। জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য অনুযায়ী, স্থান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষালাভের সমান সুযোগ থাকবে। এর ফলে অর্থের অভাবে কেউ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনাগুলো জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর নিচের লক্ষ্যগুলোর সাথে সম্পর্কিত:
    ১. নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করা: মুরব্বিদের মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব শিক্ষানীতির জাতি, ধর্ম, গোত্র ও নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যের পরিপন্থী। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই নারী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
    ২. পথশিশুসহ বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনা: পথশিশু কবিরের মতো আর্থ-সামাজিকভাবে বঞ্চিত সব ছেলেমেয়েকে শিক্ষার আওতায় আনা শিক্ষানীতির লক্ষ্য।
    ৩. প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা: লিজার মতো সব ধরনের প্রতিবন্ধীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য।
    ৪. সমান সুযোগ: মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ অবারিত করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারী শিক্ষাকে শুধু পরিবারের মঙ্গল, শিশুযত্ন ও ঘরকন্নার কাজে সীমাবদ্ধ রেখে নারীকে জাতীয় উন্নয়নে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রবণতা দূর করা হবে। সাবিনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ লক্ষ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। সামাজিক উন্নয়নে নারী শিক্ষার ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সচেতনতা ও সমঅধিকার: নারী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নারীকে সচেতন ও আত্মপ্রত্যয়ী করা এবং সমঅধিকারের অনুকূলে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রখর করা। সাবিনার কেন্দ্র গ্রামীণ মেয়েদের সেই সচেতনতা দেবে।
    ২. অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও দারিদ্র্য বিমোচন: সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পেয়ে মেয়েরা আয় করতে পারবে, যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
    ৩. ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব: শিক্ষিত নারী সকল পর্যায়ে দেশ পরিচালনায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ হয়।
    ৪. সুষম সামাজিক উন্নয়ন: নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণে সমাজের সার্বিক ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব হয় এবং বৈষম্য কমে।
    অতএব, সাবিনার উদ্যোগ নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এবং মুরব্বিদের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়ক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও