ভূগোল ২য় পত্র • মানচিত্র অভিক্ষেপ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী সাদিয়া। তিনি গত দশ বছরে নদীভাঙনে এলাকার পরিবর্তন জানতে চান, প্রস্তাবিত বাঁধ নির্মাণ পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা বিশ্লেষণ করতে চান এবং একই মানচিত্রে রাস্তাঘাট, ভূমি ব্যবহার ও জনসংখ্যার বণ্টন দেখাতে চান। এসব কাজে তিনি ARC-GIS সফটওয়্যারের সাহায্য নিচ্ছেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি জিআইএস সফটওয়্যারের নাম লেখো।
- খ)(2)
জিআইএস এর মাধ্যমে অতীত অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া সম্ভব- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সাদিয়ার কাজগুলোতে জিআইএস এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সাদিয়ার মতো পরিকল্পনাবিদদের জন্য জিআইএস একটি অপরিহার্য হাতিয়ার”- জিআইএস এর বহুমুখী ব্যবহারের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত একটি জিআইএস সফটওয়্যার হলো ARC-GIS।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জিআইএস এ বিভিন্ন সময়ের ভূমি জরিপের তথ্য, আকাশ থেকে গৃহীত আলোকচিত্র ও অন্যান্য উপাত্ত কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়। সংরক্ষিত পুরোনো উপাত্ত প্রয়োজনমতো বিশ্লেষণ ও মানচিত্রে প্রদর্শন করা যায়। এর ফলে কোনো স্থান আগে কেমন ছিল তা জানা যায় এবং আগের ও বর্তমান অবস্থার তুলনা করা সম্ভব হয়। তাই জিআইএস এর মাধ্যমে অতীত অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাদিয়ার কাজগুলোতে জিআইএস এর প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ:
১. পারিসরিক পরিবর্তন নির্ণয়: বিভিন্ন সময়ে কোনো স্থানের পারিসরিক পরিবর্তন নির্ণয়ে জিআইএস এর ভূমিকা আছে। এর সাহায্যে সাদিয়া দশ বছরের নদীভাঙনের পরিবর্তন নির্ণয় করতে পারবেন।
২. পরিবেশের ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ: বাঁধ নির্মাণের মতো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা জিআইএস এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়।
৩. বিভিন্ন ধরনের মানচিত্র অঙ্কন: রাস্তাঘাটের অবস্থান, ভূমি ব্যবহার ও জনসংখ্যার বণ্টনের মানচিত্র অঙ্কনে জিআইএস এর গুরুত্ব অপরিসীম। একই মানচিত্রে একাধিক উপাত্ত একত্র করে দেখানো সম্ভব।
সুতরাং সাদিয়ার পরিকল্পনা প্রণয়নে জিআইএস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জিআইএস একটি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ভৌগোলিক ও পারিসরিক উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পরিমার্জন ও প্রদর্শন করা যায়। পরিকল্পনাবিদদের জন্য এটি অপরিহার্য হওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
প্রথমত, বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত উপাত্ত একত্র করে সরাসরি বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে সাদিয়া ভূমি জরিপ, আলোকচিত্র ও জনসংখ্যার তথ্য একসাথে ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত, সম্পদের বণ্টন, রাস্তাঘাটের অবস্থান, ভূমিরূপ ও ভূমি ব্যবহার- এসব মানচিত্র সহজে অঙ্কন করা যায়। এতে উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত স্থান বাছাই সহজ হয়।
তৃতীয়ত, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিবেশগত প্রভাব এবং সময়ের সাথে পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ঝুঁকি আগেই বোঝা যায়। জলবায়ু গবেষণায় সমোন্নতি রেখার সাহায্যে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ুচাপ দেখানো যায়।
চতুর্থত, দূরত্ব, আয়তন ও অবস্থান নির্ণয়ে এবং ভূমি ও পানি ব্যবস্থাপনা, নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনায় জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
এসব কারণে সঠিক, দ্রুত ও কম ভুলের পরিকল্পনার জন্য জিআইএস পরিকল্পনাবিদদের অপরিহার্য হাতিয়ার।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও