তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন

তানভীর সাহেবের কারখানায় আগে শ্রমিকদের উপস্থিতি নেওয়া হতো হাতের আকার ও রেখা বিশ্লেষণের মাধ্যমে। কিন্তু কায়িক পরিশ্রমের কারণে শ্রমিকদের হাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বারবার সমস্যা হতো। তাই তিনি আঙুলের ছাপভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেন। তাঁর অফিসের সার্ভার রুমে প্রবেশের জন্য কর্মীদের কণ্ঠস্বর যাচাই করা হয় এবং গোপন কোড টাইপ করার গতি মিলিয়ে দেখা হয়।

  1. ক)

    বায়োমেট্রিক কী?

    (1)
  2. খ)

    কন্টাক্ট লেন্স পরা থাকলে আইরিশ শনাক্তকরণ পদ্ধতি সবসময় কার্যকরী নাও হতে পারে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিগুলোকে শরীরবৃত্তীয় ও আচরণগত ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভীর সাহেবের সার্ভার রুমের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে বায়োমেট্রিক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইরিশ শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে চোখের মণির চারপাশে বেষ্টিত রঙিন বলয় বা আইরিশের নকশা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। কন্টাক্ট লেন্স পরা থাকলে এটি আইরিশের ওপর একটি আবরণ তৈরি করে। ফলে স্ক্যানার আইরিশের প্রকৃত বিন্যাস সঠিকভাবে ধারণ করতে পারে না। তাই শনাক্তকরণে ভুল হতে পারে বা ব্যর্থ হতে পারে। এ কারণে কন্টাক্ট লেন্স থাকলে এ পদ্ধতি সবসময় কার্যকর হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়োমেট্রিক পদ্ধতি দুই প্রকার: শরীরবৃত্তীয় ও আচরণগত।
    শরীরবৃত্তীয় পদ্ধতি: উদ্দীপকে হাতের রেখা শনাক্তকরণ (Hand geometry) ও আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণ (Finger print) শরীরবৃত্তীয় পদ্ধতি। হাতের রেখা পদ্ধতিতে হাতের আকার, পুরুত্ব, রেখার বিন্যাস ও আঙুলের দৈর্ঘ্য বিশ্লেষণ করা হয়। আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে রেখার বিন্যাস, ত্বকের টিস্যু ও রক্ত সঞ্চালনের ভিত্তিতে ছাপচিত্র তৈরি করে ডেটাবেজে রাখা হয়।
    আচরণগত পদ্ধতি: কণ্ঠস্বর যাচাইকরণ (Voice recognition) এবং কিবোর্ডে গোপন কোড টাইপের গতি যাচাইকরণ (Typing keystroke verification) আচরণগত পদ্ধতি। কণ্ঠস্বর মাইক্রোফোনে ধারণ করে পূর্বের নমুনার সাথে তুলনা করা হয় এবং টাইপের সময় আগের সময়ের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।
    অর্থাৎ শরীরের গঠনের ভিত্তিতে পরিচয় যাচাই শরীরবৃত্তীয় এবং ব্যক্তির আচরণ বা অভ্যাসের ভিত্তিতে যাচাই আচরণগত পদ্ধতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সার্ভার রুমে কণ্ঠস্বর যাচাই ও টাইপিং গতি যাচাই, এই দুটি আচরণগত পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে।
    কণ্ঠস্বর যাচাই: ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর ধারণ করে পূর্বের রেকর্ডের সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু সর্দি বা কাশি হলে কণ্ঠস্বর বদলে যায় এবং শনাক্তকরণে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বৈধ কর্মীও প্রবেশ করতে না পারেন।
    টাইপিং গতি যাচাই: ক্লান্তি, তাড়াহুড়ো বা মানসিক অবস্থার কারণে একই ব্যক্তির টাইপের গতি বদলাতে পারে। তাই এটিও সব সময় সঠিক ফল দেয় না।
    আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিস্থিতিভেদে পরিবর্তনশীল বলে এ দুটি পদ্ধতির ওপর এককভাবে নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। সার্ভার রুমের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিখুঁত নিরাপত্তার জন্য আঙুলের ছাপ, আইরিশ বা ডিএনএ-র মতো স্থির শরীরবৃত্তীয় পদ্ধতি বেশি নির্ভরযোগ্য। এসব বৈশিষ্ট্য প্রতি মানুষের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং সহজে বদলায় না। অতএব আমার মতে, বর্তমান পদ্ধতি দুটি সহায়ক হিসেবে রেখে এর সাথে আঙুলের ছাপ বা আইরিশ স্ক্যানিং যুক্ত করলে নিরাপত্তা অধিক নির্ভরযোগ্য হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও