সাহিত্য পাঠ • আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বৃদ্ধ জব্বার মিয়া সারাজীবন জমিদারের জমি বর্গা চাষ করে ফসল ফলিয়েছেন, কিন্তু ফসলের বেশিরভাগই গেছে জমিদারের গোলায়। খাজনা বাকি পড়ায় একবার চাবুকের আঘাতে তাঁর পিঠ ফেটে গিয়েছিল, দাগ আজও আছে। নাতিকে তিনি বলেন, “মাটি আমাদের মা, আর এই দাগ আমাদের ইতিহাস।” শহরের কলেজে পড়া সেই নাতি সিদ্ধান্ত নেয়, কৃষকের অধিকার নিয়ে সে কলম ধরবে।
- ক)(1)
কবির পূর্বপুরুষের করতলে কিসের সৌরভ ছিল?
- খ)(2)
“তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জব্বার মিয়ার সঙ্গে ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার পূর্বপুরুষের কোন কোন দিকে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার ‘কিংবদন্তি’ কেবল শোষণের ইতিহাস নয়”— উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবির পূর্বপুরুষের করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে মানুষের ওপর অত্যাচারের ইতিহাসকে বোঝানো হয়েছে। রক্তজবার লাল রঙ দিয়ে ক্ষতের তাজা ভাব বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ অত্যাচারের আঘাত এখনো মুছে যায়নি। ক্ষত পিঠে থাকায় বোঝা যায়, শত্রুরা পেছন থেকে কাপুরুষের মতো আক্রমণ করেছিল। কবির পূর্বপুরুষ ছিলেন ক্রীতদাস, তাই তিনি এই নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জব্বার মিয়ার সঙ্গে কবিতার পূর্বপুরুষের মিল রয়েছে মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নির্যাতনের শিকার হওয়ার দিক থেকে। কবিতায় কবির পূর্বপুরুষের করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল, তিনি পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন। অর্থাৎ তিনি ছিলেন কর্ষণজীবী মানুষ। উদ্দীপকের জব্বার মিয়াও সারাজীবন মাটি চষে ফসল ফলিয়েছেন। আবার কবিতায় পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল, কারণ তিনি ছিলেন ক্রীতদাস। একইভাবে জব্বার মিয়ার পিঠেও চাবুকের আঘাতের দাগ রয়ে গেছে, যা জমিদারের শোষণ ও অত্যাচারের চিহ্ন। দুজনেই শ্রমজীবী মানুষ এবং দুজনের পিঠেই শোষণের স্থায়ী চিহ্ন বিদ্যমান। এভাবে উদ্দীপক ও কবিতায় শ্রম ও নির্যাতনের সমান্তরাল চিত্র ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে জব্বার মিয়ার জীবনে মূলত শোষণ ও নির্যাতনের চিত্র প্রধান। বর্গাচাষি হিসেবে ফসল ফলিয়েও তিনি ফসলের ন্যায্য অংশ পাননি, চাবুকের আঘাতে তাঁর পিঠে দাগ রয়ে গেছে। এই দিকটি কবিতার ‘পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত’ ও ক্রীতদাসত্বের ইতিহাসের সঙ্গে মেলে। কিন্তু কবিতার ‘কিংবদন্তি’ তার চেয়ে বহুমাত্রিক। এটি জনশ্রুতিতে বহমান বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের ঐতিহ্য। কবির পূর্বপুরুষ শুধু নির্যাতিত নন, তিনি কবি ও কবিতার কথা বলতেন, পতিত জমি আবাদ করতেন, মায়ের স্নেহ ও ভালোবাসার কথা বলতেন, এবং পরবর্তী প্রজন্মকে প্রতিরোধের উচ্চারণ ও মুক্তির যুদ্ধের প্রেরণা দিয়েছেন। উদ্দীপকের নাতি যখন কৃষকের অধিকার নিয়ে কলম ধরার সংকল্প করে, তখন তা প্রতিবাদী চেতনার ইঙ্গিত দেয়। তবে কবিতার সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান, ভালোবাসা ও স্বাধীনতার ব্যাপক চেতনা উদ্দীপকে নেই। তাই কিংবদন্তি কেবল শোষণের ইতিহাস নয়, এটি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও মুক্তির ঐতিহ্যেরও প্রতীক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও