বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
তানিয়া ও তার ভাই তাদের স্কুলের আবহাওয়া ক্লাবের জন্য বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানের গড় তাপমাত্রা সংগ্রহ করেছে।
জানুয়ারি মাস (ডিগ্রি সে.):
| স্থান | চট্টগ্রাম | ঢাকা | বগুড়া | দিনাজপুর |
|---|---|---|---|---|
| তাপমাত্রা | ২০ | ১৮.৩ | ১৭.৭ | ১৬.৬ |
এপ্রিল মাস (ডিগ্রি সে.):
| স্থান | কক্সবাজার | নারায়ণগঞ্জ | রাজশাহী |
|---|---|---|---|
| তাপমাত্রা | ২৭.৬৪ | ২৮.৬৬ | প্রায় ৩০ |
- ক)(1)
বাংলাদেশের শীতলতম মাস কোনটি?
- খ)(2)
বর্ষাকালে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দিলেও বাংলাদেশে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জানুয়ারি মাসের তাপমাত্রার বিন্যাসের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসের তাপমাত্রার বিন্যাস জানুয়ারি মাসের বিন্যাস থেকে ভিন্ন কেন? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রি সে.।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশের ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, ফলে অতিরিক্ত তাপ অনুভূত হওয়ার কথা। কিন্তু এ ঋতুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অধিক বৃষ্টিপাত হয়। আকাশ মেঘলা থাকে এবং বৃষ্টি বায়ুকে শীতল করে। তাই তাপমাত্রা যে হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা সে হারে বৃদ্ধি পায় না এবং গড় উষ্ণতা প্রায় ২৭ ডিগ্রি সে. থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জানুয়ারি মাসের তথ্যে দেখা যায়, দক্ষিণের চট্টগ্রামে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি (২০ ডিগ্রি সে.) এবং উত্তরের দিনাজপুরে সবচেয়ে কম (১৬.৬ ডিগ্রি সে.)। অর্থাৎ দক্ষিণ থেকে উত্তরে তাপমাত্রা ক্রমশ কমেছে।
শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে, ফলে বাংলাদেশে সূর্যের রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপ যথেষ্ট কমে যায়। দক্ষিণে সমুদ্র উপকূলের সান্নিধ্যে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। কিন্তু উত্তর দিকে সমুদ্র থেকে দূরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। এ কারণে এ সময় সমতাপ রেখাগুলো প্রায় সোজা হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থান করে এবং উত্তরাঞ্চলে শীত বেশি অনুভূত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জানুয়ারি মাসের তথ্যে তাপমাত্রা দক্ষিণ থেকে উত্তরে কমেছে, কিন্তু এপ্রিল মাসের তথ্যে কক্সবাজারে ২৭.৬৪, নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬ ও রাজশাহীতে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সে. অর্থাৎ দক্ষিণ থেকে উত্তরে তাপমাত্রা বেড়েছে।
শীতকালে (জানুয়ারি) সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বাংলাদেশে রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং দক্ষিণে সমুদ্রের প্রভাবে উপকূল তুলনামূলক উষ্ণ থাকে। ফলে উত্তরে গেলে তাপমাত্রা কমে।
গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল) সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হয়। কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে গেছে, তাই বায়ুর চাপের পরিবর্তন ঘটে ও উত্তাপ বাড়ে। এ সময় দক্ষিণ থেকে প্রবাহিত সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল তুলনামূলক শীতল থাকে। সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলে সামুদ্রিক বায়ুর শীতল প্রভাব কম, তাই সেখানে তাপমাত্রা বেশি। এপ্রিল গড় হিসেবে দেশের উষ্ণতম মাস।
অতএব, সূর্যের অবস্থান ও সমুদ্রের প্রভাব ঋতুভেদে বদলে যাওয়ায় দুই মাসের তাপমাত্রার বিন্যাস পরস্পর বিপরীত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও