সাহিত্য পাঠ • তাজমহল
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
নূরজাহান বেগম আজীবন সংগ্রাম করে ছেলেকে পড়িয়েছেন। মৃত্যুর পর তাঁর ধনী ছেলে মায়ের স্মৃতিতে সাদা মার্বেলের এক বিশাল স্মৃতিসৌধ গড়েছেন। অন্যদিকে ছেলের ছোটবেলার বন্ধু হারুন নিতান্ত গরিব। সে তার মায়ের কবর বাঁশের বেড়া ও কাদামাটি দিয়ে নিজের হাতে বেঁধেছে এবং প্রতিদিন তাতে পানি দেয়। গ্রামের লোক বলাবলি করে, ‘হারুনের মা কত ভাগ্যবতী!’
- ক)(1)
বৃদ্ধ নিজের পরিচয় কীভাবে দিয়েছিল?
- খ)(2)
“নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।”—কথক কেন নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নূরজাহান বেগমের ছেলে ও হারুনের কাজের পার্থক্য ‘তাজমহল’ গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“‘তাজমহল’ নামটি সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়”—‘ফকির শাহজাহান’ চরিত্র ও উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃদ্ধ নিজের পরিচয় দিয়েছিল ‘ফকির শাহজাহান’ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কথক জানতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধ কোথায় থাকে এবং তার নাম কী। উত্তরে বৃদ্ধ জানায়, সে আগ্রার আশেপাশে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং তার নাম ‘ফকির শাহজাহান’। একজন নিঃস্ব ভিক্ষুকের এমন নাম এবং বেগমের জন্য ভাঙা ইটে কবর গাঁথার দৃশ্য কথককে বিস্ময়ে ও গভীর আবেগে স্তব্ধ করে দেয়। সম্রাট শাহজাহান ও এই ফকিরের মধ্যে প্রেমের অদ্ভুত মিল দেখে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নূরজাহান বেগমের ছেলের কাজের সঙ্গে ‘তাজমহল’ গল্পের সম্রাট শাহজাহানের কাজের এবং হারুনের কাজের সঙ্গে ফকির শাহজাহানের কাজের মিল আছে। সম্রাট শাহজাহান প্রিয়তমা মমতাজের স্মৃতিতে বিপুল ব্যয়ে মার্বেলের তাজমহল গড়েছেন; উদ্দীপকের ধনী ছেলেও তেমনি মায়ের স্মৃতিতে সাদা মার্বেলের স্মৃতিসৌধ গড়েছেন। এটি বিত্ত ও সামর্থ্যের প্রকাশ। অন্যদিকে ফকির শাহজাহান নিঃস্ব হয়েও ভাঙা ইট ও কাদা দিয়ে নিজ হাতে বেগমের কবর গাঁথে। হারুনও বাঁশের বেড়া ও মাটি দিয়ে মায়ের কবর বেঁধেছে। দুজনের নির্মাণে অর্থের জৌলুস নেই, আছে আন্তরিক শ্রম ও গভীর ভালোবাসা। এখানেই বিত্তবানদের ও দরিদ্র মানুষের কাজের পার্থক্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তাজমহল’ বললে সাধারণত সম্রাট শাহজাহানের মমতাজের প্রতি অমর প্রেমের মার্বেল স্মৃতিসৌধের কথাই মনে পড়ে। গল্পের কথকও প্রথমে এর বাহ্যিক রূপেই মুগ্ধ হয়েছিলেন, পরে তাঁর মোহ কেটে যায়। কিন্তু শেষে দরিদ্র বৃদ্ধ যখন ভাঙা ইট ও কাদা দিয়ে বেগমের কবর গাঁথে এবং নিজেকে ‘ফকির শাহজাহান’ বলে পরিচয় দেয়, তখন বোঝা যায় প্রকৃত তাজমহল শুধু আগ্রার মার্বেলের সৌধ নয়। ঐশ্বর্যহীন মানুষের হৃদয়ের প্রেমও একটি তাজমহল। কবরটি যতই সাধারণ হোক, তার পেছনের ভালোবাসা সম্রাটের প্রেমের সমান। ‘ফকির’ ও ‘শাহজাহান’ শব্দের বৈপরীত্য গল্পের এই ব্যঞ্জনাকে আরও গভীর করেছে।
উদ্দীপকে মার্বেলের স্মৃতিসৌধ ও হারুনের কাদামাটির কবরের পাশাপাশি অবস্থান এই ভাবটিকেই প্রকাশ করে। গ্রামবাসীর কথায় বোঝা যায়, হারুনের আন্তরিকতাই বেশি মূল্য পেয়েছে।
সুতরাং শিরোনামটি কেবল একটি স্থাপনার নাম নয়; এটি সর্বস্তরের মানুষের প্রেমের প্রতীক হিসেবে সার্থক ও ব্যঞ্জনাময়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও