জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়ার বাবা-মায়ের কারও কারও ছোটবেলা থেকে অ্যালার্জি আছে। চিংড়ি মাছ খাওয়ার পর বা ঋতু পরিবর্তনের সময় তার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন সে জোরে জোরে শ্বাস নেয়, বুকে বাঁশির মতো শব্দ হয়, ঠোঁট নীল হয়ে যায়; কিন্তু জ্বর থাকে না। এক হাতুড়ে ডাক্তার তাকে বেশি মাত্রার স্টেরয়েড দিলে কষ্ট তখনই কমে যায়।
- ক)(1)
অ্যালভিওলাস কী?
- খ)(2)
অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তানিয়ার রোগটির কারণ ও লক্ষণগুলো লেখো।
- ঘ)(4)
হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা তানিয়ার জন্য কতটা যথাযথ ছিল? তানিয়ার রোগ প্রতিরোধে করণীয়সহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফুসফুসের ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতো সজ্জিত বেলুনের ন্যায় যে বায়ুধলিগুলো থাকে এবং যেখানে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে, তাকে অ্যালভিওলাস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাজমা কোনো জীবাণুর আক্রমণে হয় না। বহিঃস্থ কোনো পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ-ব্যবস্থা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালে এই রোগ হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর বংশে অ্যালার্জি বা হাঁপানির ইতিহাস থাকে। এটি জীবাণুবাহিত নয় বলে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়ায় না। তাই অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানিয়ার রোগটি হলো অ্যাজমা বা হাঁপানি।
কারণ: ১. রোগ প্রতিরোধ-ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া। ২. বংশে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস। ৩. চিংড়ি, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ ইত্যাদি অ্যালার্জিযুক্ত খাবার। ৪. শ্বাসের সাথে ধোঁয়া, ধুলাবালি, ফুলের রেণু ফুসফুসে প্রবেশ। ৫. ঋতু পরিবর্তন।
লক্ষণ: ১. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া ও দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা। ২. ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া ও গলার শিরা ফুলে ওঠা। ৩. জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে বাঁশির মতো আওয়াজ। ৪. কাশির সাথে মাঝে মাঝে সাদা কফ। ৫. সাধারণত জ্বর না থাকা। ৬. শ্বাস নেওয়ার সময় পাঁজরের মাঝের চামড়া ভেতরে ঢুকে যাওয়া। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসা তানিয়ার জন্য যথাযথ ছিল না।
১. চিকিৎসার ঝুঁকি: হাতুড়ে চিকিৎসকেরা অনেক সময় উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকারক স্টেরয়েড দেন। এতে রোগীর কষ্ট তাৎক্ষণিক উপশম হয় ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তাই এমন চিকিৎসা ও চিকিৎসক থেকে দূরে থাকতে হবে।
২. সঠিক চিকিৎসা: এ রোগ চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সারে না, তবে ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ সেবনে রোগী আরাম পায়। তাই তানিয়াকে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিরোধে করণীয়: ৩. যেসব খাবারে (চিংড়ি, গরুর মাংস ইত্যাদি) শ্বাসকষ্ট বাড়ে, তা পরিহার করা। ৪. ধোঁয়া, ধুলাবালি, পশুর লোম, কৃত্রিম আঁশ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা। ৫. আলো-বাতাসপূর্ণ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করা। ৬. সবসময় সাথে ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ রাখা এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা।
অতএব, হাতুড়ে চিকিৎসা পরিহার করে সঠিক চিকিৎসা ও সতর্কতার মাধ্যমে তানিয়া সুস্থভাবে থাকতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও