ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশ- সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নতির স্বার্থে ১৯৬৭ সালে ব্যাংককে একটি আঞ্চলিক সংস্থা গঠন করে। অন্যদিকে ১৯৬০ সালে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনেজুয়েলা মিলে খনিজ তেলের বাণিজ্য রক্ষার স্বার্থে অন্য একটি সংগঠন গঠন করে। সংগঠন দুটির সদস্যসংখ্যা এখন বেড়েছে। বন্ধু তানভীর ও সুমি সংগঠন দুটি নিয়ে আলোচনা করছে।
- ক)(1)
OPEC-এর পূর্ণরূপ লেখো।
- খ)(2)
উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (NAFTA) বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম সংস্থাটির বর্তমান সদস্য দেশগুলোর নাম লিখে সংস্থাটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় সংগঠনটি প্রথম সংস্থা থেকে কোন কোন দিক দিয়ে ভিন্ন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর OPEC-এর পূর্ণরূপ হলো Organization of Petroleum Exporting Countries (পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশসমূহের সংগঠন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালের ১২ ডিসেম্বর বাণিজ্য ও পরিবেশ-সংক্রান্ত যে চুক্তি সম্পাদন করে, তাকে NAFTA বলে। এ চুক্তি অনুসারে ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে এই তিন দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা বিষয়ক যাবতীয় বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে এ চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম সংস্থাটি হলো আসিয়ান (ASEAN)। ১৯৬৭ সালে ব্যাংককে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন- এই পাঁচটি দেশ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নতির স্বার্থে সংস্থাটি গঠন করে। এটি একটি আঞ্চলিক সংস্থা। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা দশটি। সদস্য দেশগুলো হলো- ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাকালীন পাঁচটি দেশের সাথে পরবর্তীতে আরও পাঁচটি দেশ যুক্ত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় সংগঠনটি হলো ওপেক (OPEC) এবং প্রথম সংস্থাটি আসিয়ান (ASEAN)। দুটি সংগঠনের মধ্যে ভিন্নতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- ১. গঠনের সময়: ওপেক ১৯৬০ সালে গঠিত হয়, আর আসিয়ান গঠিত হয় তার সাত বছর পরে ১৯৬৭ সালে ব্যাংককে। ২. উদ্দেশ্য: ওপেকের উদ্দেশ্য শুধু খনিজ তেল সংক্রান্ত- যেমন তেল সংক্রান্ত বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তেল উত্তোলন নীতির সমন্বয় সাধন এবং তেল সংক্রান্ত স্বার্থ সুরক্ষা। আর আসিয়ান গঠিত হয় সদস্য দেশগুলোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নতির জন্য। ৩. সদস্য দেশ: ওপেকের বর্তমান সদস্য ১৪টি, যেমন- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইকুয়েডর, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা, কাতার, অ্যাঙ্গোলা, নিরক্ষীয় গিনি ও গ্যাবন; এদের সদস্যরা বিভিন্ন মহাদেশের। আসিয়ানের সদস্য ১০টি এবং সবাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। ৪. ক্ষেত্র: ওপেক একটি পণ্যভিত্তিক সংগঠন, আর আসিয়ান একটি ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক আঞ্চলিক সংস্থা। সুতরাং গঠনকাল, উদ্দেশ্য, সদস্যবিন্যাস ও কর্মক্ষেত্রের দিক থেকে সংগঠন দুটি পরস্পর ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও