বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নীলগঞ্জ যুব সংঘের সদস্য সংখ্যা এক হাজার। সংঘের পরিচালনা কমিটি ভেঙে নিজে ক্ষমতা নেওয়ার পর সভাপতি জামাল সাহেব ঘোষণা করেন, এখন থেকে সাধারণ সদস্যরা সরাসরি ভোট দিতে পারবে না। সদস্যরা মাত্র ৮০ জন প্রতিনিধি বেছে নেবে এবং কেবল তাদের ভোটেই সভাপতি ও কমিটি নির্বাচিত হবে। তিনি আগের সংবিধান বাতিল করেন, সংঘের সব উপদলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং আগামী নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন।

  1. ক)

    কত সালে ইসকান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    আইয়ুব খান কেন মৌলিক গণতন্ত্র নামে ব্যবস্থা চালু করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে জামাল সাহেবের প্রবর্তিত নির্বাচন পদ্ধতিটি পাকিস্তানের কোন ব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জামাল সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপগুলো কি ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের পদক্ষেপের প্রতিফলন? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর ইসকান্দার মীর্জা পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইয়ুব খান ছিলেন সামরিক শাসক। তিনি তাঁর সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী ও বৈধ রূপ দিতে চেয়েছিলেন। এজন্য তিনি মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন। এ ব্যবস্থায় দুই অংশ থেকে নির্বাচিত মোট ৮০ হাজার ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি ও পরিষদ সদস্যরা নির্বাচিত হতেন। ফলে জনগণ সরাসরি ভোটের অধিকার হারায় এবং আইয়ুব খান সহজে ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ পান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জামাল সাহেবের প্রবর্তিত নির্বাচন পদ্ধতিটি আইয়ুব খানের প্রবর্তিত মৌলিক গণতন্ত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    আইয়ুব খান সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন। এ ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত মোট ৮০ হাজার ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হতো। জনগণ সরাসরি ভোট দিতে পারত না, এই নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা নির্বাচিত হতেন। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি। ১৯৬০ সালে এই ৮০ হাজার সদস্যের ভোটেই আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

    উদ্দীপকে এক হাজার সদস্যের সরাসরি ভোটের বদলে মাত্র ৮০ জন প্রতিনিধির ভোটে সভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানেও সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পরোক্ষ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তাই এটি মৌলিক গণতন্ত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হ্যাঁ, জামাল সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের পদক্ষেপের প্রায় হুবহু প্রতিফলন।

    ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর ইসকান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করে ১৯৫৮ সালের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেন, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেন, কয়েকজন নেতাকে জেলে পাঠান এবং সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেন। ২৭শে অক্টোবর আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন, ১৯৫৯ সালের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করেন এবং রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। পরে তিনি মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন।

    উদ্দীপকে জামাল সাহেব আগের সংবিধান বাতিল করেছেন, যা ১৯৫৮ সালের সংবিধান বাতিলের সাথে মেলে। কমিটি ভেঙে দেওয়া পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সাথে, উপদলের কার্যক্রম বন্ধ করা রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সাথে এবং নির্বাচন অনির্দিষ্টকাল স্থগিত করা ১৯৫৯ সালের নির্বাচন স্থগিত করার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সীমিত প্রতিনিধির ভোটে সভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা মৌলিক গণতন্ত্রেরই অনুরূপ।

    তবে মৌলিক অধিকার হরণ বা দুর্নীতি দূর করার অঙ্গীকারের মতো কিছু বিষয় উদ্দীপকে নেই। তবুও মূল চরিত্র, অর্থাৎ ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও জনগণের অংশগ্রহণ রুদ্ধ করার দিক থেকে উদ্দীপকের পদক্ষেপগুলো সামরিক শাসকদের পদক্ষেপেরই প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও