বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র তামিম লক্ষ করল, তাদের এলাকার সংরক্ষিত বনের গাছ কিছু লোক রাতে অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে, অথচ পাহারাদার প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে। আবার প্রতিবেশী জামাল সাহেব তার নিজের দোকানের হিসাবপত্র ও মালপত্র অত্যন্ত যত্নে রাখেন, কিন্তু সরকারি পানির কলটি খুলে রেখে অনেক সময় চলে যান।
- ক)(1)
সংরক্ষণ বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
ব্যক্তি সাধারণত নিজের সম্পদ অপচয় করে না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জামাল সাহেবের আচরণে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কী পার্থক্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তামিম ও তার সহপাঠীরা উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সংরক্ষণ বলতে কোনো সম্পদের বিশেষভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করাকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদ নিজ স্বার্থেই বিশেষ যত্নের সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করে। কারণ সম্পদের ক্ষতি হলে তার নিজের ক্ষতি হয়। সে সম্পদের খোঁজখবর রাখে, ক্ষতির কারণ ঘটলে তা দূর করে এবং সম্পদ বৃদ্ধিতেও তৎপর থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় না করার জন্য সে সর্বদা সতর্ক থাকে। তাই ব্যক্তি তার নিজস্ব সম্পদের অপচয় করে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামাল সাহেব তার দোকানের মালপত্র অর্থাৎ ব্যক্তিগত সম্পদ নিজ স্বার্থে অত্যন্ত যত্নে রাখেন, কারণ এর ক্ষতি তার নিজের ক্ষতি। অথচ সরকারি পানির কল সমষ্টিগত সম্পদ, যা সকল নাগরিকের। এটি তিনি খোলা রেখে অপচয় করেন, কারণ তিনি মনে করেন এতে তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নেই।
এতে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষেত্রে মালিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সচেতন থাকে। কিন্তু সমষ্টিগত সম্পদ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিকের সমান দায়িত্ব থাকলেও সচেতনতার অভাবে প্রায়ই অবহেলা দেখা যায়। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় সরবরাহ অপ্রয়োজনে খরচ না করা এবং মিতব্যয়ী হওয়া নাগরিকের কর্তব্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে দুটি সমস্যা রয়েছে: সংরক্ষিত বনের গাছ অবৈধভাবে কাটা এবং সরকারি পানির অপচয়। জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ ও অপচয়রোধে তামিমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে:
১. অবৈধ গাছ কাটা সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষ, যেমন বন বিভাগকে জানানো। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা সম্পদের ক্ষতিসাধন, তাই এর বিরুদ্ধে সচেতন থাকা ও জানানো নাগরিক দায়িত্ব। পাহারাদারকে অনুপস্থিত দেখলেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত।
২. বন ও প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে এলাকায় প্রচার চালানো, কারণ বন আমাদের পরিবেশ ও সমাজজীবনের জন্য অপরিহার্য।
৩. জামাল সাহেবসহ প্রতিবেশীদের পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অপ্রয়োজনে খরচ না করতে এবং মিতব্যয়ী হতে সচেতন করা।
৪. স্কুলে ও গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়া এবং আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা।
যুক্তি: জাতীয় সম্পদ সব নাগরিকের যৌথ সম্পদ। প্রতিটি নাগরিক সচেতন ও সচেষ্ট থাকলে সম্পদ সংরক্ষণ ও অপচয়রোধ কঠিন নয়। তাই এই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও