সাহিত্য পাঠ • হাড়

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাব্বির বলল, “আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক রক্ত ঝরিয়ে এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সেই রক্ত আজ আমাদের শিরায় সাহস হয়ে বইছে। আমরা এখন আর দুর্বল নই। দেশের মাটির দিকে হাত বাড়াতে এলে কোনো বিদেশি শক্তিকে আমরা ছাড় দেব না।” শ্রোতারা করতালিতে তাকে অভিনন্দন জানাল।

  1. ক)

    ‘হাড়’ কবিতায় কবি কোন ধরনের হাড় গড়ার কথা বলেছেন?

    (1)
  2. খ)

    “ঝকঝক করে তীব্র তীক্ষ্ণ বর্শা-ফলা”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    রক্ত থেকে হাড়ে রূপান্তরের যে ভাব ‘হাড়’ কবিতায় আছে, উদ্দীপকে তা কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “‘হাড়’ কবিতায় ‘হাড়’ শব্দটি প্রতীকী।”—উদ্দীপকের আলোকে এ প্রতীকের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হাড়’ কবিতায় কবি ইস্পাত-হাড় গড়ার কথা বলেছেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “ঝকঝক করে তীব্র তীক্ষ্ণ বর্শা-ফলা” বলতে বোঝানো হয়েছে যে দীর্ঘ সংগ্রামে রক্ত ঝরার পর বাঙালির হাড় এখন বর্শার ফলার মতো ধারালো ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এটি বাঙালির প্রতিরোধ-ক্ষমতা ও দৃঢ়তার প্রতীক। কবি বর্শা-ফলার উপমার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে কোনো আক্রমণকারী শক্তিকে মোকাবিলা করার মতো শক্তি এখন এদেশের মানুষের মধ্যে আছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হাড়’ কবিতায় কবি বলেছেন, ফাঁসির মঞ্চে, দ্বীপান্তরে অনেক রক্ত ঝরেছে; এখন সেই রক্তের ত্যাগ থেকে জন্ম নিয়েছে ইস্পাতদৃঢ় হাড়। অর্থাৎ ত্যাগ ও আত্মদানের পর জাতি এখন শক্তি অর্জন করেছে। উদ্দীপকে সাব্বির বলেছে, পূর্বপুরুষদের ঝরানো রক্ত আজ তাদের শিরায় সাহস হয়ে বইছে, তারা আর দুর্বল নয়। এখানেও অতীতের রক্তদান বর্তমান প্রজন্মের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে রূপ নিয়েছে। কবিতায় যা ‘হাড়’-এর শক্তি, উদ্দীপকে তা ‘সাহস’। তাই রক্ত থেকে শক্তিতে রূপান্তরের ভাবটি উদ্দীপকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হাড়’ কবিতায় ‘হাড়’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে শরীরের অস্থি নয়; এটি জাতির সহনশক্তি, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ-ক্ষমতার প্রতীক। কবিতায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সংগ্রামে ঝরে গেছে সকল রক্ত, এখন বাকি আছে হাড়, যা ইস্পাতের মতো কঠিন। কবি বলেছেন, “ইস্পাত-হাড় গড়েছি বজ্র বহ্নি-জ্বালা”। পলাশির পরাজয়, বর্গীর অত্যাচার, ব্রিটিশ শোষণ ও ফাঁসির মঞ্চের ত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তাই হাড়ে বজ্রের শক্তি হয়ে জমা হয়েছে। রক্ত ক্ষণস্থায়ী ও ঝরে যায়, কিন্তু হাড় স্থায়ী ও অটুট; তাই এটি জাতির চিরস্থায়ী শক্তির প্রতীক। উদ্দীপকে সাব্বিরের বক্তব্যে এই প্রতীকের প্রতিফলন দেখা যায়। সে অতীতের রক্তদানের কথা স্মরণ করে বলেছে, তারা এখন আর দুর্বল নয়, আর কোনো বিদেশি শক্তিকে ছাড় দেবে না। এখানে ‘সাহস’ ও ‘ছাড় না দেওয়ার প্রত্যয়’ কবিতার ‘হাড়’ প্রতীকের মতোই জাতির অপরাজেয় শক্তিকে নির্দেশ করে। উভয় ক্ষেত্রেই ‘নতুন দস্যু আসে যদি, দেশ দেবো না তারে’-র মতো দৃপ্ত ঘোষণা প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং ‘হাড়’ প্রতীকটি ত্যাগ থেকে অর্জিত অপরাজেয় জাতীয় শক্তি ও প্রতিরোধের চেতনার ব্যঞ্জনা বহন করে, যা উদ্দীপকের আলোকে আরও স্পষ্ট হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও