বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি একটি সেদ্ধ ডিম কেটে দেখাতে গিয়ে বলল, পৃথিবীর অভ্যন্তরও ডিমের মতো স্তরে স্তরে সাজানো। সে একটি নকশা এঁকে তিনটি স্তর চিহ্নিত করল। স্তর A-এর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৪৮৬ কিলোমিটার এবং এটি নিকেল ও লৌহ দিয়ে গঠিত। স্তর B-এর পুরুত্ব প্রায় ২৮৮৫ কিলোমিটার এবং এটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে গঠিত। স্তর C সবচেয়ে উপরের স্তর, যা সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়ামসমৃদ্ধ শিলা দিয়ে গঠিত এবং এর গভীরতা স্থানভেদে ৩০ থেকে ৬৪ কিলোমিটার।
- ক)(1)
পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের ব্যাসার্ধ কত?
- খ)(2)
অশ্মমণ্ডলকে সিয়াল স্তর বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্তর A-এর গঠন ও অবস্থা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পৃথিবীর অভ্যন্তরের সরাসরি তথ্য সংগ্রহ কঠিন হলেও উদ্দীপকের স্তরগুলো সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে — কীভাবে? স্তর B ও C-এর তুলনার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের ব্যাসার্ধ প্রায় ৩৪৮৬ কিলোমিটার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অশ্মমণ্ডল নানা প্রকার শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত। এ স্তরে অক্সিজেন, লৌহ, ক্যালসিয়াম প্রভৃতির পাশাপাশি সিলিকন (Silicon) ও অ্যালুমিনিয়ামের (Aluminium) পরিমাণ বেশি। সিলিকনের 'সি' এবং অ্যালুমিনিয়ামের 'আল' নিয়ে এই স্তরের নাম হয়েছে সিয়াল (Sial)। তাই অশ্মমণ্ডলকে সিয়াল স্তর বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের স্তর A হলো পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল।
গঠন: কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী পদার্থ দ্বারা গঠিত। নিকেল (Ni) ও লৌহের (Fe) পরিমাণ বেশি বলে একে নাইফ (Nife) বলা হয়। এটি পানির চেয়ে ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ঘন।
অবস্থা: প্রচণ্ড তাপ ও চাপের কারণে এটি সম্ভবত পুরোপুরি কঠিন অবস্থায় নেই। ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায়, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত। বাইরের অংশ তরল, যার বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কিলোমিটার। ভিতরের অংশ কঠিন, যা পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১২১৬ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূ-অভ্যন্তরের সঠিক তথ্য সরাসরি সংগ্রহ করা খুবই কঠিন। কিন্তু ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবেগ ও প্রকৃতির তারতম্য লক্ষ করে ভূতত্ত্ববিদরা শিলার ঘনত্বের পার্থক্য ও বিভিন্ন স্তরের অবস্থান জানতে পেরেছেন। এভাবেই উদ্দীপকের তিনটি স্তর (কেন্দ্রমণ্ডল, গুরুমণ্ডল, অশ্মমণ্ডল) চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
স্তর B ও C-এর তুলনা:
স্তর B হলো গুরুমণ্ডল এবং স্তর C হলো অশ্মমণ্ডল।
১. গঠন: B সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামে গঠিত বলে একে সিমা বলা হয়; এর উপরাংশে ব্যাসল্ট জাতীয় উপাদান আছে। C সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়ামসমৃদ্ধ বলে সিয়াল নামে পরিচিত।
২. অবস্থান: B কেন্দ্রমণ্ডলের ওপরে অবস্থিত, আর C সবচেয়ে উপরের স্তর। ভূত্বক এই C স্তরেরই উপরিভাগ।
৩. পুরুত্ব: B-এর পুরুত্ব প্রায় ২৮৮৫ কিলোমিটার, যেখানে C-এর গভীরতা মাত্র ৩০ থেকে ৬৪ কিলোমিটার। অর্থাৎ B অনেক বেশি পুরু।
৪. উপাদান: B-তে ভারী ধাতুর প্রাধান্য থাকায় এটি বেশি ঘন। C স্তরে অপেক্ষাকৃত হালকা শিলা ও খনিজ রয়েছে।
৫. গভীরতার তারতম্য: C স্তরের গভীরতা মহাদেশের নিচে সবচেয়ে বেশি এবং মহাসাগরের নিচে সবচেয়ে কম।সুতরাং ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে স্তরগুলো জানা গেছে এবং গঠন, অবস্থান ও পুরুত্বে B ও C-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও