বাংলা ১ম পত্র • বাংলা শব্দ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

স্থানীয় ক্লাবের বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গ্রামের শিক্ষক জহিরুল সাহেবকে স্বাগত জানাতে গিয়ে সঞ্চালক বললেন, “আজ রাত্তিরে আমাদের এই আয়োজনে আপনি এসেছেন, আমরা ধন্য।” এরপর তিনি অনুষ্ঠানের শুরুতে ভগবানের নাম নিয়ে বললেন, “জয় কেষ্ট!” জহিরুল সাহেব বক্তৃতায় বললেন, “ভাষার মার্জিত রূপ বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। আনুষ্ঠানিক পরিবেশে ‘রাত্রি’, ‘কৃষ্ণ’-র মতো শুদ্ধ রূপই মানায়।”

  1. ক)

    ‘কেষ্ট’ শব্দটির মূল রূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    “শব্দগুলো বিকলাঙ্গ”— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    সঞ্চালকের ব্যবহৃত ‘রাত্তিরে’ ও ‘কেষ্ট’ শব্দ দুটি কোন শ্রেণির এবং কেন? ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধ অনুসারে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আনুষ্ঠানিক পরিবেশে সঞ্চালকের শব্দ ব্যবহার এবং জহিরুল সাহেবের মন্তব্য— ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধের আলোকে কার মতামত অধিক যুক্তিসংগত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘কেষ্ট’ শব্দটির মূল রূপ ‘কৃষ্ণ’।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সংস্কৃত বা প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার কিছু শব্দ রূপ বদলে প্রাকৃতে এসেছিল। এরপর তাদের আর পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি; প্রাকৃত রূপ নিয়েই অবিকশিতভাবে বাংলায় এসেছে। লেখকের মতে ‘কৃষ্ণ’ ও ‘রাত্রি’ এভাবে বিকল হয়ে ‘কেষ্ট’ ও ‘রাত্তির’ হয়েছে। রূপটি ত্রুটিযুক্ত অঙ্গের মতো বলে এদের ‘বিকলাঙ্গ’ বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সঞ্চালকের ব্যবহৃত ‘রাত্তিরে’ ও ‘কেষ্ট’ শব্দ দুটি অর্ধ-তৎসম শব্দ। প্রবন্ধ অনুসারে সংস্কৃতের কিছু শব্দ কিছুটা রূপ বদলে প্রাকৃতে ঢুকেছিল, তারপর আর বদলায়নি এবং প্রাকৃত রূপ নিয়েই বাংলায় এসেছে। এগুলোই অর্ধ-তৎসম। সংস্কৃত ‘রাত্রি’ বদলে হয়েছে ‘রাত্তির’ এবং ‘কৃষ্ণ’ বদলে হয়েছে ‘কেষ্ট’। শব্দ দুটি তৎসমও নয়, আবার নিয়ম মেনে পূর্ণ বিবর্তিত তদ্ভবও নয়; তাই এরা অর্ধ-তৎসম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবন্ধের আলোকে জহিরুল সাহেবের মতামত অধিক যুক্তিসংগত। ১. শব্দের শ্রেণি: সঞ্চালকের ‘রাত্তির’ ও ‘কেষ্ট’ অর্ধ-তৎসম শব্দ। লেখক এদের ‘বিকলাঙ্গ’ বলেছেন, কারণ এগুলো প্রাকৃত রূপেই অবিকশিত থেকে গেছে। ২. ব্যবহারের পরিবেশ: প্রবন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মার্জিত পরিবেশে সাধারণত অর্ধ-তৎসম শব্দ ব্যবহার করা হয় না। বার্ষিক অনুষ্ঠান ও প্রধান অতিথির সামনে বলা একটি আনুষ্ঠানিক পরিবেশ, তাই এখানে অর্ধ-তৎসম শব্দ মানানসই নয়। ৩. বিকল্প শুদ্ধ রূপ: ‘রাত্তির’-এর স্থলে তৎসম ‘রাত্রি’ এবং ‘কেষ্ট’-র স্থলে ‘কৃষ্ণ’ ব্যবহার করা যায়, যেমন জহিরুল সাহেব বলেছেন। প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, পরিবর্তিত রূপ বাদ দিয়ে আমরা অনেক সময় খাঁটি সংস্কৃত রূপ ফিরিয়ে এনেছি। তবে অর্ধ-তৎসম শব্দ বাংলা ভাষারই অংশ, ঘরোয়া আলাপে এগুলোর ব্যবহার অস্বাভাবিক নয়। সুতরাং আনুষ্ঠানিক পরিবেশে জহিরুল সাহেবের মতই অধিক যুক্তিসংগত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও