বাংলা ১ম পত্র • স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা আলম ফেরিওয়ালা সেজে শত্রু ক্যাম্পের আশপাশে ঘুরে ঘুরে খবর সংগ্রহ করতেন। একদিন এক রাজাকার তাঁকে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সরল গ্রাম্য মানুষের মতো কথা বলে তাকে ভুলিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত খবর নিয়ে তিনি নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসেন। সবাই বলে, আলমের বুদ্ধি যেমন, সাহসও তেমন।

  1. ক)

    নাটিকার বিপ্লবীর প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    বিপ্লবী কেন ফকির গরীবুল্লাহর ছদ্মবেশে ফেরিঘাটে এসেছিলেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলমের কৌশলের সঙ্গে ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ নাটিকার বিপ্লবীর কৌশলের মিল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি সাহস ও আদর্শই আলম এবং নাটিকার বিপ্লবীকে সফল করেছে।”—উদ্দীপক ও নাটিকার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাটিকার বিপ্লবীর প্রকৃত নাম মোয়াজ্জেম হোসেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুলিশ বিপ্লবীকে ধরার জন্য পোস্টার সেঁটে ফাঁদ পেতেছিল এবং দু হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। নিজের আসল পরিচয়ে এলে তাঁকে সহজেই ধরা পড়তে হতো। তাই তিনি পরচুলা, দাড়ি ও টুপি পরে গ্রামীণ ফকির বা গায়েনের বেশে আসেন। এতে দারোগার সন্দেহ এড়ানো সহজ হয়। ডিঙিতে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে নদী পার হয়ে বৈঠকে যাওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। এজন্যই তিনি ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আলমের কৌশলের সঙ্গে নাটিকার বিপ্লবীর ছদ্মবেশ ধারণ ও বুদ্ধি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভুলিয়ে দেওয়ার কৌশলের মিল রয়েছে।
    উদ্দীপকে আলম ফেরিওয়ালা সেজে শত্রুর ক্যাম্পের আশপাশে ঘোরেন। সন্দেহ করা হলে সরল গ্রাম্য মানুষের মতো কথা বলে তিনি রাজাকারকে ভুলিয়ে দেন। নাটিকায় বিপ্লবী পরচুলা, দাড়ি ও টুপি পরে পুঁথি-কেতাব বিক্রেতা ফকির গরীবুল্লাহ সেজে আসেন। হুজুর, মালিক বলে সরল গ্রাম্য ভাষায় কথা বলে এবং গান গেয়ে তিনি দারোগা নূর মোহাম্মদের সন্দেহ দূরে রাখেন। দুজনই ছদ্মবেশ ও চতুর কথাবার্তার মাধ্যমে বিপদ এড়িয়ে লক্ষ্যে পৌঁছান। এ দিক থেকে দুজনের কৌশল এক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কেবল ছদ্মবেশ বা বুদ্ধি দিয়ে বিপজ্জনক কাজ সফল করা যায় না; এর পেছনে চাই সাহস ও আদর্শ। উদ্দীপকের আলম এবং নাটিকার বিপ্লবী উভয়ের মধ্যেই এ গুণ আছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
    ১. বুদ্ধিমত্তা: আলম সরল গ্রামবাসীর মতো কথা বলে রাজাকারকে ভুলিয়ে দেন। বিপ্লবীও ফকির সেজে গান গেয়ে এবং নানা কথা বলে দারোগার মনের কথা বের করে নেন, তাঁর মনোভাব বুঝে নেন।
    ২. সাহস: শত্রু ক্যাম্পের পাশে ঘোরা আলমের পক্ষে প্রাণের ঝুঁকির কাজ। নাটিকার বিপ্লবীও পুলিশের ফাঁদ পাতা ঘাটে সরাসরি হাজির হন। দারোগা পিস্তল তাক করলেও তিনি ভয় পান না, বলেন, “স্বাধীনতার আগুন কখনো নেভে না।”
    ৩. আদর্শ: আলম দেশের মুক্তির জন্য খবর সংগ্রহ করেন। বিপ্লবীর লক্ষ্যও দেশের স্বাধীনতা; তিনি দেশের মানুষকে ভয়ের শিকল থেকে মুক্ত করতে চান। এই আদর্শই তাঁদের ঝুঁকি নেওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।
    সুতরাং বুদ্ধি, সাহস ও দেশপ্রেমের সম্মিলনেই দুজনের সাফল্য এসেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও