সাহিত্য পাঠ • হাড়

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

প্রতি বছর অগ্রহায়ণে ঘোড়সওয়ার একদল দস্যু ঝড়ের মতো এসে শালগ্রামের পাকা ধান পুড়িয়ে দিত এবং ঘরবাড়ি লুট করত। গ্রামবাসী কেঁদে কেঁদে ঘর ছাড়ত। এ বছর বৃদ্ধ জব্বার মাঝি বললেন, “আর কান্নায় কাজ নেই, চোখের জলকে এবার আগুন করতে হবে।” তিনি যুবকদের নিয়ে লাঠি হাতে রুখে দাঁড়ালেন। কিন্তু অধিকাংশ গ্রামবাসী ভয়ে পালিয়ে গিয়ে বলল, “ভাগ্যে যা আছে, তাই হবে।”

  1. ক)

    বর্গী কারা?

    (1)
  2. খ)

    “সোনার শস্য পোড়ে ছারখার”—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    “দৃষ্টি পুড়ে হলো সঙ্গীন, তাই নেই আর অশ্রুধারা”—চরণটির তাৎপর্য উদ্দীপকের জব্বার মাঝির বক্তব্যের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের পলায়নপর গ্রামবাসীর মনোভাব ও ‘হাড়’ কবিতার জনগণের মনোভাবের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত বাংলার পশ্চিমাঞ্চলে যে মহারাষ্ট্রীয় সৈন্যরা লুণ্ঠন, হত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল, তাদেরকে বর্গী বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “সোনার শস্য পোড়ে ছারখার” বলতে বর্গীদের আক্রমণে বাংলার ফসলের মাঠ পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে। বাংলার পাকা ফসল ছিল এদেশের সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। দ্রুতগতির ঘোড়ায় চড়ে আসা বর্গী সৈন্যরা লুণ্ঠন ও জ্বালাও-পোড়াও করে এই সমৃদ্ধিকে নষ্ট করে দিত। ফলে মানুষ সর্বস্বান্ত ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “দৃষ্টি পুড়ে হলো সঙ্গীন, তাই নেই আর অশ্রুধারা”—চরণটিতে দীর্ঘ নির্যাতনে শোকের রূপান্তর প্রতিরোধের শক্তিতে পরিণত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্গীর অশ্বখুরে গ্রাম-জনপদ কেঁপেছে, সোনার শস্য ছারখার হয়েছে। এত দুঃখের পর মানুষের চোখে কান্না আর থাকেনি; সেই দৃষ্টি হয়ে উঠেছে সঙ্গীনের মতো তীক্ষ্ণ ও প্রতিশোধের আগুনে জ্বলন্ত। উদ্দীপকে জব্বার মাঝির উক্তি “চোখের জলকে এবার আগুন করতে হবে”-তেও একই ভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রতি বছর ধান পোড়া যাওয়া ও লুটের যন্ত্রণায় তিনি কান্না ছেড়ে লাঠি হাতে প্রতিরোধে নামেন। অর্থাৎ কবিতার চরণ ও উদ্দীপকের বক্তব্য দুটিতেই অশ্রুর বদলে প্রতিরোধের দৃঢ়তা জেগে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পলায়নপর গ্রামবাসী ও ‘হাড়’ কবিতার জনগণের মনোভাবের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকে অধিকাংশ গ্রামবাসী দস্যুদের আক্রমণে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। “ভাগ্যে যা আছে, তাই হবে”—এই উক্তিতে তাদের ভাগ্যনির্ভরতা ও নিষ্ক্রিয় আত্মসমর্পণের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কেবল জব্বার মাঝি ও কয়েকজন যুবক প্রতিরোধের সাহস দেখান। এর বিপরীতে ‘হাড়’ কবিতায় বর্গীর অত্যাচারে গ্রাম-জনপদ কাঁপলেও জনগণ ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছে; বাঁশের কেল্লা গড়েছে, ফাঁসির মঞ্চে ও দ্বীপান্তরে রক্ত ঝরিয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রাম, বিদ্রোহ ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় তারা এখন ইস্পাতদৃঢ়; তাদের হাড়ে বজ্রের শক্তি। তাই কবিতার জনগণ সংঘবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যৎ আক্রমণ রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে দৃঢ়—‘নতুন দস্যু আসে যদি, দেশ দেবো না তারে’। উদ্দীপকের অধিকাংশ গ্রামবাসী বিচ্ছিন্ন ও ভীত, আর কবিতার জনগণ ঐক্যবদ্ধ ও অপরাজেয়। উদ্দীপকের জব্বার মাঝি কেবল কবিতার জনগণের সংগ্রামী মনোভাবের একটি সূচনামাত্র প্রতিনিধিত্ব করেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও