জীববিজ্ঞান • কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্র তানভীর খেলতে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেল এবং কেটে গিয়ে রক্ত বের হলো। কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতস্থানে নতুন কোষ তৈরি হয়ে ক্ষত শুকিয়ে গেল। তার চাচা বললেন, তাঁর নিজের শরীরে একটি টিউমার ধরা পড়েছে যেখানে কোষ বিভাজন থামছে না এবং এটি ধীরে ধীরে ক্ষতিকর হয়ে উঠছে।

  1. ক)

    টিউমার কী?

    (1)
  2. খ)

    মাইটোসিসের ফলে জীবের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তানভীরের ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে তানভীরের ক্ষতস্থান পূরণ ও তার চাচার টিউমার একই কোষ বিভাজনের ফল হলেও দুটির পরিণতি ভিন্ন— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে কোষ অস্বাভাবিকভাবে বিভাজিত হতে থাকে এবং এর ফলে দেহে যে অস্বাভাবিক কোষপিণ্ড সৃষ্টি হয়, তাকে টিউমার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ মাতৃকোষের হুবহু সমান থাকে। ক্রোমোজোম জিন বহন করে বলে সব কোষ একই বৈশিষ্ট্য লাভ করে। ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হয় এবং জীবের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফল। আঘাতে কিছু কোষ নষ্ট হলে ক্ষতস্থানের আশপাশের জীবিত কোষগুলো মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে থাকে। এর ফলে নতুন কোষের সংখ্যা বাড়ে এবং নষ্ট হওয়া কোষের স্থান পূরণ হয়। নতুন কোষগুলো আগের কোষের মতোই ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ ধারণ করে বলে ক্ষতস্থানটি স্বাভাবিক টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়। এভাবে মাইটোসিসের মাধ্যমে ক্ষতস্থান পূরণ হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের ক্ষতস্থান পূরণ ও তার চাচার টিউমার উভয়ই মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফল। কিন্তু দুটির পরিণতি ভিন্ন, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. নিয়ন্ত্রণ: স্বাভাবিক ক্ষেত্রে মাইটোসিস নিয়ন্ত্রিতভাবে চলে। ক্ষত পূরণ হয়ে গেলে বিভাজন থেমে যায়। তানভীরের ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটেছে। চাচার ক্ষেত্রে কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে কোষ বিভাজন থামছে না।
    ২. উদ্দেশ্য ও ফল: তানভীরের ক্ষেত্রে নষ্ট কোষের স্থলে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে দেহের ক্ষতি পূরণ হয়েছে, যা উপকারী। চাচার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিভাজনে কোষের পিণ্ড বা টিউমার সৃষ্টি হয়েছে, যা ক্ষতিকর।
    ৩. পরিণতি: তানভীরের ক্ষত শুকিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন চলতে থাকলে চাচার টিউমারটি প্রাণঘাতী ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।
    সুতরাং মাইটোসিস নিয়ন্ত্রিত হলে জীবের জন্য কল্যাণকর, আর অনিয়ন্ত্রিত হলে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও