জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি গ্রামে ভাইরাসজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ডা. সালমা একজন রোগীর কোষ পরীক্ষা করে দেখলেন, ভাইরাসে আক্রান্ত কোষ থেকে একধরনের ক্ষুদ্র প্রোটিন ক্ষরিত হয়ে আশপাশের সুস্থ কোষে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে পার্শ্ববর্তী অনেক কোষ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া কিছুদিন পর রোগীর রক্তে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে Y আকৃতির প্রোটিনও পাওয়া গেল।

  1. ক)

    ইমিউনিটি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    NK-কোষ ফ্যাগোসাইট নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র প্রোটিনটি কীভাবে সুস্থ কোষকে রক্ষা করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি প্রোটিনের মধ্যে কোনটি সংক্রমণের শুরুতে এবং কোনটি পরবর্তী সময়ে কার্যকর হয়েছে? উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ায় দেহ ক্ষতিকর অণুজীব এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করে, তাকে ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফ্যাগোসাইট জীবাণুকে ক্ষণপদের সাহায্যে গ্রাস করে ফ্যাগোসোম গঠন করে এবং লাইসোজোমের এনজাইম দিয়ে হজম করে। কিন্তু NK-কোষ কাউকে গ্রাস করে না। এরা সাইটোটক্সিন, পারফোরিন ও গ্রানাইজাইম ক্ষরণ করে টার্গেট কোষের প্লাজমাঝিল্লিতে ছিদ্র সৃষ্টি করে এবং কোষটিকে ধ্বংস করে। তাই NK-কোষ ফ্যাগোসাইট নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র প্রোটিনটি হলো ইন্টারফেরন, যা এক ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন। এটি নিম্নরূপে সুস্থ কোষকে রক্ষা করে: ১. ভাইরাসে আক্রান্ত কোষ থেকে ইন্টারফেরন উৎপন্ন ও ক্ষরিত হয়। ২. ক্ষরিত ইন্টারফেরন ব্যাপিত হয়ে আশপাশের সুস্থ কোষের ঝিল্লিতে যুক্ত হয়। ৩. এটি সুস্থ কোষগুলোকে এমন প্রোটিন সংশ্লেষে উদ্দীপ্ত করে, যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয়। ৪. ফলে ভাইরাসের পক্ষে সুরক্ষিত কোষগুলোতে আক্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে প্রথম প্রোটিনটি ইন্টারফেরন এবং দ্বিতীয় Y আকৃতির প্রোটিনটি অ্যান্টিবডি। ইন্টারফেরন সংক্রমণের শুরুতেই আক্রান্ত কোষ থেকে ক্ষরিত হয়, কারণ এটি দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা। অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তরে, B-কোষ প্লাজমা কোষে পরিণত হলে, তাই এটি কিছুদিন পরে পাওয়া গেছে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য: ১. উৎস: ইন্টারফেরন ভাইরাসে আক্রান্ত দেহকোষ থেকে ক্ষরিত হয়; অ্যান্টিবডি B-কোষ থেকে উৎপন্ন প্লাজমা কোষ তৈরি করে। ২. প্রকৃতি: ইন্টারফেরন ক্ষুদ্র গ্লাইকোপ্রোটিন; অ্যান্টিবডি Y আকৃতির প্রোটিন। ৩. নির্দিষ্টতা: ইন্টারফেরন নন-স্পেসিফিক, যেকোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে; অ্যান্টিবডি স্পেসিফিক, কেবল নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে। ৪. কাজের ধরন: ইন্টারফেরন সুস্থ কোষকে ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম করে ও ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বাধা দেয়; অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে অকার্যকর ও ধ্বংসযোগ্য করে। ৫. প্রতিরক্ষা স্তর: ইন্টারফেরন সহজাত (দ্বিতীয় স্তর); অ্যান্টিবডি অর্জিত (তৃতীয় স্তর)। অতএব ইন্টারফেরন দ্রুত প্রাথমিক সুরক্ষা দেয় এবং অ্যান্টিবডি পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও