সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ শিকারি কালাচাঁদ ছেলেদের তির-ধনুক ধরা ও ফাঁদ বানানো শেখাতেন। আবার বনে ঢুকলে সবাইকে খালি পায়ে, নিরস্ত্র ও নিঃশব্দে চলতে বলতেন। গাছ জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে থাকতে শেখাতেন। বলতেন, 'গাছও শ্বাস নেয়, তোমরাও গাছের অংশ।' ছেলেরা প্রথমে হাসলেও পরে তাঁর কথায় নতুন এক অনুভূতি পায়।
- ক)(1)
ফাঁদের সুতোর জন্য শোভা বুড়ো কোন গাছের ছাল শুকাতে দিত?
- খ)(2)
"তার সঙ্গে তখন চলতে হতো খালি পায়ে, সম্পূর্ণ নিরস্ত্র, নিঃশব্দে।"- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কালাচাঁদের শিক্ষা 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার শোভা বুড়োর কোন শিক্ষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার শিক্ষা দানে শোভা বুড়ো কালাচাঁদের চেয়ে অনেক বেশি পথ দেখিয়েছে।"- উদ্দীপক ও রচনার আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফাঁদের সুতোর জন্য শোভা বুড়ো উদাল গাছের ছাল শুকাতে দিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়ো লেখকদের বনের ভেতর সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখাতে নিয়ে যেত। বনকে সে জীবজন্তুর রাজ্য ও প্রাণময় জগৎ মনে করত। তাই সেখানে শিকারি বা আগন্তুকের মতো নয়, প্রকৃতির অংশ হয়ে যাওয়ার জন্য সে খালি পায়ে, অস্ত্র ছাড়া ও নিঃশব্দে চলার নিয়ম রেখেছিল। এতে বনের প্রাণীদের শান্তি নষ্ট হতো না এবং বনের প্রতি শ্রদ্ধা ও একাত্মতা প্রকাশ পেত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কালাচাঁদের শিক্ষা শোভা বুড়োর গাছ জড়িয়ে ধরে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার শিক্ষার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রচনায় শোভা বুড়ো কোনো বড় গাছ দেখলে দাঁড়িয়ে লেখকদের সেটি জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে থাকতে বলত। কোনো হাত বা গাল বেয়ে কিছু উঠলে তা তাড়াতে দিত না। তার কথামতো তাঁরা নিজেদের গাছের অংশ ভাবতেন, বাকলে গাল ঘষতেন এবং গাছের দোলন ও ভেতরের শৌঁ-শৌঁ আওয়াজ টের পেতেন। উদ্দীপকে কালাচাঁদও ছেলেদের গাছ জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে থাকতে বলেন এবং বলেন তারা গাছের অংশ। উভয়ের শিক্ষার মূল লক্ষ্য মানুষকে প্রকৃতির আপন সন্তান হিসেবে চিনিয়ে দেওয়া। এ কারণেই দুটি শিক্ষা সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কালাচাঁদ ছেলেদের তির-ধনুক ও ফাঁদ বানানোর পাশাপাশি নিঃশব্দে চলা এবং গাছ জড়িয়ে ধরে অনুভব করার শিক্ষা দেন। এতে শিকার ও প্রকৃতিপ্রেমের সমন্বয় দেখা যায়। রচনায় শোভা বুড়োও লেখকদের তির-ধনুক ধরতে, লক্ষ্যভেদ করতে ও ফাঁদ বানাতে শেখাত। কিন্তু তার শিক্ষা এখানেই থেমে থাকেনি। সে খরাপাতার স্তূপে ছেলেদের শুইয়ে গা ও মুখ পাতায় ঢেকে মাটিতে মিশে যেতে বলত। ছেলেরা আকাশের নীল ও মেঘ দেখতে দেখতে পাখি হওয়ার স্বপ্ন দেখত। শিস দিয়ে বুনো পাখিকে হাতে ও মাথায় বসিয়ে বলেছে, বহু মেহনত আর মহব্বত লাগে। শেষ পর্যন্ত সে মন্ত্র নিয়ে শিকার ছেড়ে দেয় এবং তির-ধনুক ও ফাঁদ ছেলেদের বিলিয়ে দেয়। সাপ ও জন্তুজানোয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা ও বনকে তাদের রাজ্য মানার বোধও সে জাগিয়েছে। কালাচাঁদের শিক্ষায় এই বিস্তৃতি ও গভীরতা নেই। তাই মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও