জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

আজিজ সাহেব ৩৫ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় এক প্যাকেট সিগারেট খান। তিনি একটি ধাতব গুঁড়া ও অ্যাসবেস্টস ব্যবহারকারী কারখানায় কাজ করতেন। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ভগ্নস্বর, খুসখুসে কাশি, ওজন হ্রাস ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিয়েছে। বছরে কয়েকবার তিনি ব্রংকাইটিস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরীক্ষায় ডাক্তার তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সারের সন্দেহ করেন।

  1. ক)

    রেডিয়েশন থেরাপি কী?

    (1)
  2. খ)

    ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আজিজ সাহেবের রোগ নির্ণয়ের জন্য কী কী পরীক্ষা করা প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আজিজ সাহেবের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ তাঁর রোগের জন্য কতটা দায়ী? ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়সহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তেজস্ক্রিয় বিকিরণের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে রেডিয়েশন থেরাপি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো যত দ্রুত নির্ণয় করা যায় এবং চিকিৎসা শুরু করা যায়, রোগীর তত বেশি দিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে। দেরি করলে ক্যান্সার কোষ বিস্তার লাভ করে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই লক্ষণ দেখামাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজিজ সাহেবের ফুসফুস ক্যান্সারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে নিচের পরীক্ষাগুলো করা হয়:
    ১. থুতু বা শ্লেষ্মা বিশ্লেষণ।
    ২. বুকের এক্স-রে।
    ৩. সিটি স্ক্যান ও এমআরআই।
    এরপর চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের জন্য সাইটো ও হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করতে হয়। এতে ফুসফুসের কোষ বা টিস্যু পরীক্ষা করে ক্যান্সার কোষ আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজিজ সাহেবের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ তাঁর রোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী।
    ১. ধূমপান: ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। আজিজ সাহেব ৩৫ বছর ধরে প্রতিদিন ধূমপান করছেন।
    ২. কর্মক্ষেত্রের দূষণ: অ্যাসবেস্টস, কঠিন ধাতুর গুঁড়া, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, নিকেল ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে ফুসফুসে ক্যান্সার হতে পারে। তিনি এমন পরিবেশেই কাজ করতেন।
    ৩. পুরনো সংক্রমণ: নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ ফুসফুসে এক ধরনের ক্ষত সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। এছাড়া বারবার ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ফুসফুস ক্যান্সারের একটি প্রাথমিক লক্ষণও।
    প্রতিরোধের উপায়: ৪. ধূমপান ও মদ্যপান না করা। ৫. অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাদ্য না খাওয়া। ৬. নিয়মিত ব্যায়াম করা। ৭. পরিমাণমতো শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। ৮. কর্মক্ষেত্রে দূষণকারী বস্তুর সংস্পর্শ এড়ানো বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
    সুতরাং আজিজ সাহেবের ধূমপান ও কর্মপরিবেশ দুটিই রোগের জন্য দায়ী এবং এসব ব্যবস্থা নিলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও