বাংলা ১ম পত্র • অন্ধবধূ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আয়েশা বেগমের স্বামী বহু বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। প্রথম দিকে নিয়মিত চিঠি আসত, এখন আর আসে না। আয়েশার চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছে। ননদ রুনা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, “ভাবি, ভাইয়া ঠিকই ফিরবে।” আয়েশা মৃদু হেসে বলেন, “ফিরলে ভালো; না ফিরলেও তোদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলেই আমার দিন কেটে যাবে।”
- ক)(1)
অন্ধবধূ কখন আবার বিয়ে হবে বলে উল্লেখ করেছে?
- খ)(2)
“দেখবি তখন—প্রবাস কেমন লাগে?”—কথাটি দ্বারা বধূ কী বুঝিয়েছে?
- গ)(3)
“তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে / দুটো যেন প্রাণের কথা বলে”—চরণ দুটি উদ্দীপকের আয়েশার কোন কথার সঙ্গে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“আয়েশার জীবনদৃষ্টিতে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূর আত্মমর্যাদাবোধ ও জীবনের প্রতি মমত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অন্ধবধূ বলেছে, এই আষাঢ় মাসেই আবার বিয়ে হবে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বধূ ধরে নিয়েছে, অন্ধ বলে তার স্বামী আবার বিয়ে করবেন এবং নতুন সংসারে মগ্ন হয়ে ঘরে ফেরার পথ ভুলে যাবেন। তখন ননদ বুঝবে, ভাই থেকেও যেন দূরে প্রবাসে আছে। কথাটিতে বধূর অভিমান ও একাকিত্বের ব্যথা ফুটে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চরণ দুটি উদ্দীপকের আয়েশার ‘তোদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথা বলেই আমার দিন কেটে যাবে’—এই উক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। কবিতায় বধূ ঘাট থেকে তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে চায় না, কারণ ঘরে ফিরলে তাকে একা গৃহকোণে থাকতে হবে। বরং স্নিগ্ধ জলের ধারে ননদের সঙ্গে প্রাণের কথা বলে সে মনের ভার লাঘব করতে চায়। উদ্দীপকে আয়েশাও স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাকিত্বের মধ্যে আছেন এবং ননদদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেই সান্ত্বনা খোঁজেন। দুই ক্ষেত্রেই আপনজনের সঙ্গে আলাপই একাকিত্বের ব্যথা ভোলার অবলম্বন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ। ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূ গভীর বেদনা সত্ত্বেও আত্মমর্যাদাবোধে সমৃদ্ধ এবং নৈরাশ্যবাদী নয়; জীবনের প্রতি তার মমত্ববোধ আছে। ১. আত্মমর্যাদা ও সংযম: বধূ নিজের কষ্টের কথা বললেও সে স্বামীর ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চায় না এবং সবকিছু মেনে নিয়ে নিজেকে সামলে রাখে। আয়েশাও স্বামীর অনিশ্চিত ফেরা নিয়ে অভিযোগ না করে বলেন, না ফিরলেও তাঁর দিন কেটে যাবে। এতে তাঁর আত্মমর্যাদা ও সংযম প্রকাশ পেয়েছে। ২. জীবনের প্রতি মমত্ব: বধূ ঋতুর পরিবর্তন, ঝরা-বকুল ও কোকিলের ডাকের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে জীবনকে ভালোবাসে। আয়েশাও সুখ-দুঃখের কথা বলে আপনজনের সঙ্গে জীবন কাটাতে চান। ৩. পার্থক্য: বধূর বেদনা অন্ধত্ব, কাঁদার সুখ হারানো ও স্বামীর পুনর্বিবাহের আশঙ্কা থেকে উৎসারিত এবং সে প্রকৃতিকেও সান্ত্বনার অবলম্বন করে; উদ্দীপকে এসব অনুপস্থিত, সেখানে বিরহ ও আপনজনের সাহচর্যই প্রধান। অতএব, আত্মমর্যাদা ও জীবনমমত্বের দিক থেকে প্রতিফলন ঘটলেও বধূর বেদনা ও অনুভবের পূর্ণ রূপ উদ্দীপকে নেই; তাই মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও