জীববিজ্ঞান • জীবকোষ ও টিস্যু
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
রাকিব একজন ম্যারাথন দৌড়বিদ। দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর জন্য তার পেশিকোষে প্রচুর শক্তি দরকার হয়। শিক্ষক পাঠ্যবইয়ের চিত্র দেখিয়ে বললেন, পেশিকোষের যে অঙ্গাণু X এই শক্তি জোগায়, সেটি দুই স্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি দিয়ে ঘেরা, ভেতরের ঝিল্লি আঙুলের মতো ভাঁজ হয়ে আছে এবং এর ভেতরে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, X এক সময় স্বাধীনভাবে বসবাস করত।
- ক)(1)
ক্রিস্টি কী?
- খ)(2)
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অঙ্গাণু X-এর গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
‘X এক সময় স্বাধীনভাবে বসবাস করত’ – এই ধারণার সপক্ষে পাঠ্যবইয়ের যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের ঝিল্লির আঙুলের মতো ভাঁজকে ক্রিস্টি (cristae) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শ্বসনের চারটি ধাপের মধ্যে গ্লাইকোলাইসিস ছাড়া বাকি তিনটি ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে। শ্বসনের ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয় এবং এর সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকে। জীব এই শক্তি তার বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। এ কারণে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অঙ্গাণু X হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। এর গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো।
১. এটি দুই স্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি বা আবরণী দিয়ে ঘেরা, অর্থাৎ বহিঃঝিল্লি ও অন্তঃঝিল্লি আছে।
২. অন্তঃঝিল্লি ভেতরের দিকে আঙুলের মতো ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে।
৩. ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার অক্সিজোম থাকে, যাতে উৎসেচকগুলো সাজানো থাকে।
৪. ভেতরে ম্যাট্রিক্স থাকে, যেখানে DNA ও রাইবোজোম অবস্থান করে।
৫. দুই ঝিল্লির মাঝে আন্তঃঝিল্লি স্থান থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত X হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। বিজ্ঞানীদের অনুমান, বিবর্তনের কোনো এক সময়ে সুকেন্দ্রিক কোষের ভেতর মাইটোকন্ড্রিয়া বা এর পূর্বসূরী ঢুকে পড়ে এবং পরে কোষের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. নিজস্ব DNA: মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে নিজস্ব DNA আছে, যা একটি স্বাধীন জীবের বৈশিষ্ট্য।
২. নিজস্ব রাইবোজোম: ম্যাট্রিক্সের রাইবোজোম এই DNA-র সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন সংশ্লেষণ করে, ঠিক যেমন ব্যাকটেরিয়া কোষের রাইবোজোম সেই কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। অর্থাৎ অঙ্গাণুটি নিজের প্রয়োজনীয় প্রোটিন নিজেই তৈরি করতে পারে, যা অন্য কোষের অংশ হয়ে ওঠার আগে এর স্বাধীনভাবে বসবাসের সপক্ষে একটি প্রমাণ।
৩. অনুপস্থিতির উদাহরণ: প্রাককেন্দ্রিক কোষে এবং Trichomonas, Monocercomonoides-এর মতো কিছু সুকেন্দ্রিক কোষেও মাইটোকন্ড্রিয়া নেই। এতে ধারণা করা যায়, সব সুকেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া শুরু থেকে ছিল না, পরে কোনো এক সময় যুক্ত হয়েছে।
এসব তথ্য-উপাত্ত থেকে ধারণা করা যায় যে, মাইটোকন্ড্রিয়া এক সময় স্বাধীনভাবে বসবাস করত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও