বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
দাদু নাতি রাফিকে বলেন, বিশ শতকের শুরুর দিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের পর বিশ্বনেতারা শান্তির জন্য একটি সংস্থা গড়েছিলেন। কিন্তু সংস্থাটির দুর্বলতার কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই আরও ভয়াবহ আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে সাত কোটির বেশি মানুষ নিহত হয়, অসংখ্য মানুষ গৃহহারা ও পঙ্গু হয়। দাদু বলেন, এরপর বিশ্বের নেতারা আরও শক্তিশালী একটি নতুন সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
জাতিসংঘ দিবস কবে পালন করা হয়?
- খ)(2)
লীগ অব নেশনস বিশ্বশান্তি রক্ষা করতে পারেনি কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নতুন সংস্থাটি গঠনের পটভূমি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে এড়াতে জাতিসংঘের উদ্দেশ্যগুলো কতটুকু যথেষ্ট? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতি বছর ২৪শে অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস পালন করা হয়। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু সংস্থাটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল এবং অন্যান্য কারণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্ব মেটানো সম্ভব হয়নি। এ কারণেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং লীগ অব নেশনস বিশ্বশান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত নতুন সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ গঠনের পটভূমি নিম্নরূপ:
১. দুটি বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-১৯৪৫) পৃথিবীতে ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা ডেকে আনে।
২. লীগ অব নেশনসের ব্যর্থতা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তা বিশ্বশান্তি রক্ষা করতে পারেনি।
৩. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি: এ যুদ্ধে সাত কোটির বেশি মানুষ নিহত ও কোটি কোটি মানুষ আহত হয়। অনেকে গৃহহারা ও পঙ্গু হয় এবং প্রতিটি দেশ তাদের কর্মক্ষম যুবসম্প্রদায়কে হারায়। এতে বিশ্ব বিবেক নাড়া খায়।
৪. বিশ্বনেতাদের উদ্যোগ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলসহ বিশ্বনেতারা শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
৫. সম্মেলন ও সিদ্ধান্ত: ১৯৪৩ সালে তেহরান ও মস্কোতে ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর ৫০টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সমস্যা হলো যুদ্ধ, প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়। জাতিসংঘ সনদে লিপিবদ্ধ উদ্দেশ্যগুলো এ ধরনের সমস্যা এড়ানোর জন্যই প্রণীত।
উদ্দেশ্যগুলোর কার্যকারিতা:
১. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা: শান্তিভঙ্গের হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা জাতিসংঘের প্রথম উদ্দেশ্য। এটি সরাসরি যুদ্ধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
২. শান্তিপূর্ণ সমাধান: আন্তর্জাতিক আইনের সাহায্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান যুদ্ধের কারণ কমায়।
৩. সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব: সমান অধিকারের প্রতি সম্মান এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জাতিতে জাতিতে অবিশ্বাস কমায়।
৪. মৌলিক অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি অসন্তোষ ও সংঘাত হ্রাস করে।
৫. সমন্বয় কেন্দ্র: জাতিসংঘ জাতিসমূহের প্রচেষ্টার সমন্বয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।সীমাবদ্ধতা: লীগ অব নেশনসের মতো জাতিসংঘের উদ্দেশ্যও কেবল কাগজে থাকলে যথেষ্ট নয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিকতা এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী ও নিরাপত্তা পরিষদের মতো অঙ্গের কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন।
উপসংহারে বলা যায়, উদ্দেশ্যগুলো সমস্যা এড়ানোর জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে, তবে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সদিচ্ছা ছাড়া তা সম্পূর্ণ যথেষ্ট নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও