বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

পার্বত্য অঞ্চলের একটি নদীতে বাঁধ দিয়ে বিশাল জলাধার তৈরি করা হয়েছে। জলাধারের পানি টারবাইনের মধ্য দিয়ে ছেড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এই বাঁধের ফলে নিচের অঞ্চল ভয়াবহ বন্যার হাত থেকে অনেকটা রক্ষা পেয়েছে। তানভীরের মামা এখানে কাজ করেন। তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎ তেল বা গ্যাস থেকে তৈরি বিদ্যুতের চেয়ে অনেক সস্তা, তবুও সারা দেশে এ ধরনের আরও কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব নয়।

  1. ক)

    জলবিদ্যুৎ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    জলবিদ্যুৎকে নবায়নযোগ্য শক্তিসম্পদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রকল্প থেকে বাংলাদেশ কী কী সুবিধা পাচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভীরের মামার মন্তব্য 'সস্তা হলেও সারা দেশে আরও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব নয়'—বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নদী ও জলপ্রপাতের পানির বেগ ব্যবহার করে টারবাইন যন্ত্রের সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তাকে জলবিদ্যুৎ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে নদীর প্রবাহমান পানি ব্যবহার করা হয়। এই পানি ব্যবহারের পর শেষ হয়ে যায় না, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে নদী আবার ভরে ওঠে। তেল বা গ্যাসের মতো এটি একবার ব্যবহারে ফুরিয়ে যায় না। তাই বারবার ব্যবহার করা যায় বলে জলবিদ্যুৎকে নবায়নযোগ্য শক্তিসম্পদ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নদীর বাঁধ ও এর বহুমুখী পরিকল্পনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর সুবিধাগুলো হলো:

    ১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: কাপ্তাইয়ে বাঁধ দিয়ে পাকিস্তান আমলে প্রথম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এটি সবচেয়ে কম খরচের বিদ্যুৎ।
    ২. বন্যা নিয়ন্ত্রণ: এ বাঁধের ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চল ভয়াবহ বন্যা থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারছে।
    ৩. কৃষি: কর্ণফুলী বহুমুখী পরিকল্পনায় প্রায় ১০ লক্ষ একর জমিতে কৃষিজ ফলন হচ্ছে।
    ৪. নৌ চলাচল: এ পরিকল্পনা থেকে ৬৪৪ কিলোমিটার নৌ চলাচল সম্ভব হচ্ছে।

    এভাবে প্রকল্পটি বিদ্যুৎ, কৃষি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগে অবদান রাখছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মামার মন্তব্যের দুটি অংশ রয়েছে এবং দুটিই বাংলাদেশের জন্য সত্য।

    জলবিদ্যুৎ সস্তা: বর্তমান বিশ্বে তেল, গ্যাস বা পারমাণবিক চুল্লি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি। সেই তুলনায় জলবিদ্যুতের খরচ অনেক কম। এছাড়া এটি নবায়নযোগ্য, তাই জ্বালানি কিনতে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় না। কাপ্তাইয়ের বাঁধ বিদ্যুতের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও নৌচলাচলেও সুবিধা দেয়। সুতরাং নদীর পানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো অর্থনীতির জন্য লাভজনক।

    সারা দেশে সম্ভব নয় কেন: জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পাহাড়ি নদী ও উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি দরকার, যাতে পানির প্রবাহের গতিবেগ বেশি পাওয়া যায়। বাংলাদেশের বেশির ভাগ অংশ সমতল এবং নদীগুলোও ধীরগতির। কর্ণফুলীর মতো পাহাড়ি নদী ও উপযুক্ত পাহাড় দেশে বেশি নেই। তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সীমিত।

    উপসংহার: মামার মন্তব্য যথার্থ। সম্ভাবনাময় পাহাড়ি অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ বাড়ানো গেলেও সারা দেশের চাহিদা মেটাতে অন্য উৎসের ওপরও নির্ভর করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও