সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর একটি ঐতিহাসিক নাটকে সেনাপতির ভূমিকায় অভিনয় করছে। সে অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করে হাতে অসি ও পিঠে ধনুর্বাণ নিয়ে সমরাঙ্গনে প্রবেশ করে। মাথায় শিরস্ত্রাণ, কোমরে খঞ্জর। কিন্তু নাটকের শেষ দৃশ্যে সে এক এক করে সব সরঞ্জাম খুলে ফেলে নিরস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়।
- ক)(1)
‘খঞ্জর’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
‘জাতিবধবেদনা’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তানভীরের ব্যবহৃত কোন কোন সামগ্রী ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশে হোসেন ত্যাগ করেছিলেন? তা কী অর্থ বহন করে, ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“অস্ত্র ত্যাগ করে নিরস্ত্র হওয়া ইমাম হোসেনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।” — গদ্যাংশের ঘটনা বিশ্লেষণ করে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘খঞ্জর’ শব্দের অর্থ চাকু বা ছুরি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জাতিবধবেদনা’ শব্দটির ‘জাতি’ অর্থ আত্মীয়স্বজন এবং ‘বধ’ অর্থ হত্যা। অর্থাৎ ‘জাতিবধবেদনা’ হলো আত্মীয়স্বজনকে হত্যা করার ফলে সৃষ্ট যন্ত্রণা। ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশে ইমাম হোসেন এজিদের হাতে তাঁর ভাই হাসান, ভ্রাতৃপুত্র কাসেমসহ পরিবারের অনেক সদস্যের নির্মম হত্যায় যে গভীর শোক বহন করছিলেন, এখানে তা-ই বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে তানভীর অসি, ধনুর্বাণ, শিরস্ত্রাণ ও খঞ্জর ব্যবহার করেছে। ‘কারবালা-প্রান্তর’ গদ্যাংশে ইমাম হোসেন ফোরাতকূলে জল ফেলে দেওয়ার পর পবিত্র শিরস্ত্রাণ (বর্ম) দূরে নিক্ষেপ করেন এবং কোমরবন্ধ খুলে ফেলে দেন। তিনি তরবারি, তির, নেজা, বল্লম, বর্ম, খঞ্জর প্রভৃতি অস্ত্রশস্ত্রও দূরে ছুড়ে ফেলেন। এর মধ্যে শিরস্ত্রাণ, অসি (তরবারি) ও খঞ্জর উদ্দীপকের সামগ্রীর সঙ্গে মিলে যায়। ‘অসি’ অর্থ তরবারি, ‘শিরস্ত্রাণ’ হলো মাথার বর্ম, ‘খঞ্জর’ হলো ছুরি। স্বজনহারা অসীম শোক ও জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা থেকেই হোসেন এসব ত্যাগ করেন, যা তাঁর গভীর বেদনার প্রতীক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হোসেনের নিরস্ত্র হওয়ার সিদ্ধান্তটি কৌশলগত দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আদর্শের দিক থেকে এটিকে ভুল বলা যায় না। বাস্তব ফল দেখলে দেখা যায়, অস্ত্র ফেলার পর জেয়াদ, ওমর ও সীমার ধনুর্বাণ হাতে তাঁকে ঘিরে ফেলে। জেয়াদ পেছন থেকে বিষাক্ত লৌহশর নিক্ষেপ করে এবং সীমারের তির গ্রীবাদেশ বিদ্ধ করে। যে বর্ম ও অস্ত্রের মাহাত্ম্যে তিনি নির্ভয় ছিলেন, তা ত্যাগ করায় নিরস্ত্র অবস্থায় তিনি শত্রুর আঘাতের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত শহিদ হন। এ দৃষ্টিতে সিদ্ধান্তটি আত্মরক্ষার বিচারে ভুল মনে হতে পারে। কিন্তু হোসেনের কাছে এ যুদ্ধ প্রাণরক্ষার নয়, স্বজনদের পিপাসার্ত মৃত্যুর বেদনা ও প্রতিবাদের। জল ত্যাগের পর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই তাঁর ছিল না। তিনি আত্মত্যাগ ও শোকে মগ্ন ছিলেন বলে অস্ত্রের প্রয়োজন বোধ করেননি। তাঁর এই আচরণে জীবনের চেয়ে আদর্শ ও স্বজনপ্রেম বড় হয়ে উঠেছে। তাই সিদ্ধান্তটি সামরিক ভুল হলেও নৈতিক ও আবেগের বিচারে মহৎ আত্মত্যাগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও