পদার্থ বিজ্ঞান • বিদ্যুতের চৌম্বক ক্রিয়া
পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন
তানিয়া একটি কয়েলের দুই প্রান্ত একটি অ্যামিটারের সাথে যুক্ত করল। সে একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু কয়েলের ভেতর ঢোকানোর সময় অ্যামিটারের কাঁটা ক্ষণিকের জন্য ডান দিকে নড়তে দেখল। চুম্বকটি কয়েলের ভেতর স্থির রাখলে কাঁটা শূন্যে ফিরে এল। টেনে বের করার সময় কাঁটা বাম দিকে নড়ল। পরে সে চুম্বকের বদলে দ্বিতীয় একটি কয়েল প্রথম কয়েলের কাছে রাখল এবং তার সাথে ব্যাটারি ও একটি সুইচ যুক্ত করল।
- ক)(1)
তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ কাকে বলে?
- খ)(2)
কয়েলের ভেতর শক্তিশালী চুম্বক স্থির রাখলে অ্যামিটারে কোনো বিদ্যুৎ দেখা যায় না কেন?
- গ)(3)
তানিয়া চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কয়েলে ঢোকালে এবং পরে টেনে বের করলে অ্যামিটারের কাঁটা কোন দিকে নড়বে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দ্বিতীয় কয়েলের সুইচ চালু করা, চালু অবস্থায় রাখা এবং বন্ধ করার সময় প্রথম কয়েলের সাথে যুক্ত অ্যামিটারে কী দেখা যাবে তা বিশ্লেষণ করো। ব্যাটারির বদলে এসি উৎস ব্যবহার করলে অ্যামিটারে কী ঘটবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো কুণ্ডলীর ভেতর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটালে কুণ্ডলীতে ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎপ্রবাহ সৃষ্টি হওয়ার ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কয়েলে বিদ্যুৎপ্রবাহ বা আবিষ্ট ভোল্টেজ তখনই সৃষ্টি হয়, যখন কয়েলের ভেতর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে। চুম্বকটি স্থির থাকলে কয়েলের ভেতর চৌম্বক ক্ষেত্র অপরিবর্তিত থাকে। চুম্বক যত শক্তিশালীই হোক, ক্ষেত্রের পরিবর্তন না হওয়ায় কোনো তড়িৎচালক শক্তি আবিষ্ট হয় না। তাই অ্যামিটারে কোনো বিদ্যুৎ দেখা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উত্তর মেরু ঢোকানোর সময় কাঁটা ডান দিকে নড়েছিল। চুম্বকের মেরু পরিবর্তন করলে আবিষ্ট বিদ্যুৎপ্রবাহের দিকও পরিবর্তিত হয়।
তাই দক্ষিণ মেরু কয়েলে ঢোকানোর সময় কাঁটা উত্তর মেরুর ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে অর্থাৎ বাম দিকে ক্ষণিকের জন্য নড়বে।
আবার চুম্বক টেনে বের করার সময় কয়েলের ভেতর ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঢোকানোর বিপরীত হয়, ফলে আবিষ্ট প্রবাহের দিকও উল্টে যায়। তাই দক্ষিণ মেরু টেনে বের করার সময় কাঁটা ডান দিকে নড়বে।
অর্থাৎ ঢোকানোর সময় বাম দিকে এবং বের করার সময় ডান দিকে কাঁটা ক্ষণিকের জন্য নড়বে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুইচ চালু করার সময়: দ্বিতীয় কয়েলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই ক্ষেত্র শূন্য থেকে বেড়ে ওঠার ফলে প্রথম কয়েলের ভেতর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে। তাই আবেশের কারণে অ্যামিটারের কাঁটা ক্ষণিকের জন্য একদিকে নড়ে।
সুইচ চালু রাখা অবস্থায়: দ্বিতীয় কয়েলে স্থির প্রবাহ থাকায় চৌম্বক ক্ষেত্র অপরিবর্তিত থাকে। প্রথম কয়েলের ভেতর কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় অ্যামিটারে কোনো প্রবাহ দেখা যায় না, কাঁটা শূন্যে থাকে।
সুইচ বন্ধ করার সময়: দ্বিতীয় কয়েলের চৌম্বক ক্ষেত্র আবার অদৃশ্য হয়ে যায়, অর্থাৎ ক্ষেত্রের পরিবর্তন হয়। তাই কাঁটা ক্ষণিকের জন্য আগের বিপরীত দিকে নড়ে।
এসি উৎস ব্যবহার করলে: এসি প্রবাহ ক্রমাগত বাড়ে-কমে এবং দিক পরিবর্তন করে বলে দ্বিতীয় কয়েলের চৌম্বক ক্ষেত্রও ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। ফলে প্রথম কয়েলের ভেতর সবসময় ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটে এবং সেখানে ক্রমাগত আবিষ্ট ভোল্টেজ সৃষ্টি হয়। এই নীতিতেই ট্রান্সফর্মার কাজ করে।
সুতরাং, কেবল চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের সময়ই বিদ্যুৎ আবিষ্ট হয়, স্থির ক্ষেত্রে হয় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও