ভূগোল ২য় পত্র • মানব ভূগোল
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
কুড়িগ্রামের তানভীর নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারসহ ঢাকায় এসে একটি বস্তিতে বসবাস শুরু করে। সেখানে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসমস্যা তাদের নিত্যসঙ্গী। এলাকার সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে আসা একজন ভূগোলবিদ তানভীরদের জীবনযাত্রা, বসতির পরিবেশ ও গ্রাম থেকে শহরে আসার কারণ জরিপের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করছেন।
- ক)(1)
মানব ভূগোল কাকে বলে?
- খ)(2)
মানব ভূগোলকে সমাজবিজ্ঞানের শাখা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভূগোলবিদের কাজে মানব ভূগোল পাঠের কোন কোন প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যাগুলো সমাধানে মানব ভূগোলের জ্ঞান কীভাবে সহায়ক হতে পারে? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষ ও স্থান সম্পর্কিত জ্ঞানকে মানব ভূগোল বলে, যা স্থান ও কালভেদে মানুষের সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের সঙ্গে পরিবেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানব ভূগোলে মানুষ, তার সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়। রন জনস্টনের মতে, মানব ভূগোল সমাজবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা বিশ্ব, বিশ্বের মানুষ, গোষ্ঠী ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো সমাজবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোই মানব ভূগোলের পরিসরে পড়ে। তাই মানব ভূগোলকে সমাজবিজ্ঞানের শাখা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ভূগোলবিদের কাজে মানব ভূগোল পাঠের প্রধানত দুটি প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, বাস্তব সম্বন্ধীয় জ্ঞান লাভ। মানব ভূগোলের গবেষণায় মানবজীবনের বাস্তব বিষয়ের গুণগত ও পরিমাণগত বিশ্লেষণ করা হয়, ফলে দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অসমতার মতো সমস্যা সম্পর্কে বাস্তবধর্মী জ্ঞান পাওয়া যায়। উদ্দীপকে ভূগোলবিদ জরিপের মাধ্যমে বস্তিবাসীর দারিদ্র্য ও অশিক্ষার বিষয়টি বিশ্লেষণ করছেন। দ্বিতীয়ত, অভিগমনের প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ। প্রাকৃতিক বা সামাজিক বিকর্ষণমূলক কারণে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে অভিগমন করে এবং মানব ভূগোলে এর ধরন ও প্রভাব আলোচিত হয়। তানভীরের নদীভাঙনের কারণে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা এই অভিগমনের উদাহরণ, যা ভূগোলবিদ বিশ্লেষণ করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে তানভীরদের সমস্যা হলো দারিদ্র্য, অশিক্ষা, স্বাস্থ্যসমস্যা এবং নদীভাঙনজনিত বাস্তুচ্যুতি। মানব ভূগোলের জ্ঞান এসব সমস্যা সমাধানে নানাভাবে সহায়ক হতে পারে। প্রথমত, মানব ভূগোলে সমাজের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অসমতার বাস্তবধর্মী গুণগত ও পরিমাণগত বিশ্লেষণ করা হয়, ফলে সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী সমাধান দেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, অভিগমনের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে নদীভাঙন-প্রবণ এলাকায় গ্রামীণ পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া যায়, যাতে মানুষ শহরমুখী না হয়। তৃতীয়ত, চিকিৎসা ভূগোলের মাধ্যমে বস্তির স্বাস্থ্যসমস্যা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বণ্টন বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো যায়। চতুর্থত, বসতি ও নগর পরিকল্পনা বিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বস্তিবাসীর আবাসন ও পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব। এছাড়া শিক্ষা ও শ্রমের উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও মানব ভূগোলের গবেষণা সহায়ক। সুতরাং মানব ভূগোলের জ্ঞান কাজে লাগালে উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও