বাংলা ১ম পত্র • আমার দেশ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আকস্মিক বন্যায় নীলগঞ্জ এলাকার অনেক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর, সুমি ও তাদের বন্ধুরা ঠিক করল তারা ত্রাণ সংগ্রহ করবে। কারও পরিচয় বা ধর্ম না দেখে তারা সবার জন্য শুকনো খাবার, কাপড় ও ওষুধ নিয়ে নৌকায় করে আশ্রয়কেন্দ্রে গেল। আশ্রয়কেন্দ্রের বৃদ্ধ ও শিশুদের সঙ্গে বসে তারা নিজেদের খাবারও ভাগ করে খেল। শিক্ষক বললেন, “তোমাদের উদার মন দেখে আশা জাগে, এ জাতি আবার উঠে দাঁড়াবে।”
- ক)(1)
‘বারতা’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“জীবনের ডাক আসে / সেই ডাকে দেয় সাড়া”—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
কবিতায় ‘জীবনের ডাক’-এ সাড়া দিয়ে মানুষ কী করে এবং উদ্দীপকে তানভীর ও সুমিরা কীভাবে সেই ডাকে সাড়া দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে”—চরণটির তাৎপর্য উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বারতা’ শব্দের অর্থ সংবাদ বা বার্তা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জীবনের ডাক’ বলতে কবি নতুন দিনে নতুন করে বেঁচে থাকা ও মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আহ্বানকে বুঝিয়েছেন। সূর্য ওঠার মতোই প্রতিদিন মানুষের কাছে এ আহ্বান আসে। এ ডাকে সাড়া দিয়ে নদী-প্রান্তর পার হয়ে লক্ষ প্রাণের ধারা মিলিত হয়। অর্থাৎ বাংলার মানুষ জীবনের আহ্বান উপেক্ষা করে না, বরং পরস্পরের সঙ্গে মিলে এগিয়ে চলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘আমার দেশ’ কবিতায় জীবনের ডাক এলে মানুষ নদী-প্রান্তর পার হয়ে ছুটে আসে। তারা মুক্ত-উদার মনে সবার সঙ্গে মিলিত হয় এবং আর্ত-ব্যথিত ও সুধী-গুণীজনের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা-সাম্য-প্রীতির বিনিময় করে। উদ্দীপকে বন্যার্ত মানুষের দুর্দশার ডাকে তানভীর, সুমি ও তাদের বন্ধুরা সাড়া দিয়েছে। তারা ত্রাণ সংগ্রহ করে নৌকায় করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। কারও পরিচয় বা ধর্ম না দেখে সবাইকে সমানভাবে সাহায্য করেছে এবং নিজেদের খাবারও ভাগ করে নিয়েছে। এভাবে তারা কবিতার সেবা, সাম্য ও প্রীতির আদর্শকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মুক্ত-উদার মনে’ চরণটির মাধ্যমে কবি বাংলার মানুষের সংকীর্ণতাহীন, ভেদাভেদমুক্ত ও বড় মনের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ দেশের মানুষ জীবনের ডাকে সাড়া দিয়ে সবার সঙ্গে মিলিত হতে চায়। উদ্দীপকে এই উদারতা স্পষ্ট। ১. ভেদাভেদহীনতা: তানভীর, সুমিরা কারও পরিচয় বা ধর্ম না দেখে সবাইকে সাহায্য করেছে। এটি মুক্ত মনের পরিচয়। ২. আর্তের পাশে দাঁড়ানো: কবিতায় আর্ত-ব্যথিতের পাশে দাঁড়ানোর কথা আছে। উদ্দীপকে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়া সেই মানবিকতারই প্রকাশ। ৩. ভাগ করে নেওয়া: কবিতার সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময়ের আদর্শ উদ্দীপকে দেখা যায়, যখন তারা নিজেদের খাবারও আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছে। ৪. আশাবাদ: কবিতার শেষে কবি জীবনের আশ্বাসে মন ভরে ওঠার কথা বলেছেন। শিক্ষকের “এ জাতি আবার উঠে দাঁড়াবে”—কথাটি এই আশ্বাসের প্রকাশ। সুতরাং উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের কাজে চরণটির উদার, মানবিক ও আশাবাদী তাৎপর্য পূর্ণরূপে ফুটে উঠেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও