সাহিত্য পাঠ • সুখ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পিতার মৃত্যুর পর দুই ভাই হারুন ও জব্বার জমিজমা ভাগ করে নেয়। হারুন নিজের জমির ফসল দিয়ে গ্রামের গরিব প্রতিবেশীদের সাহায্য করে এবং একটি অবৈতনিক স্কুল চালু করে। অন্যদিকে জব্বার গোলা ভরে ফসল জমায়, প্রতিবেশীদের বিপদে মুখ ফিরিয়ে থাকে, এমনকি সামান্য জমির সীমানা নিয়ে মামলা করে। বৃদ্ধ বয়সে হারুনের বাড়ি মানুষের ভালোবাসায় ভরে থাকে, আর জব্বার ধন-সম্পদের মাঝেও একা ও বিষণ্ণ দিন কাটায়।
- ক)(1)
‘সুখ’ কবিতায় সংসারকে কী বলা হয়েছে?
- খ)(2)
“যা রোপিবে—তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!”—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জব্বারের চরিত্রে ‘সুখ’ কবিতার কোন দিকটির বিপরীত রূপ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“যা রোপিবে—তাই পাবে”—চরণটির আলোকে উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুখ’ কবিতায় সংসারকে ‘কর্মভূমি’ বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি এখানে কর্মফলের চিরন্তন নিয়মের কথা বলেছেন। কৃষক যেমন জমিতে যে বীজ বোনে সেই ফসলই পায়, তেমনি মানুষও জীবনে যে কর্ম করে তার ফলই ভোগ করে। এই সংসার একটি কর্মক্ষেত্রের মতো। যে ভালো কাজ করে, সে সুখ ও শান্তি লাভ করে। আর যে স্বার্থপরতা ও অন্যের ক্ষতির পথ বেছে নেয়, সে প্রকৃত সুখ থেকে বঞ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জব্বারের চরিত্রে ‘সুখ’ কবিতার পরহিত ও স্বার্থত্যাগের আদর্শের বিপরীত রূপ ফুটে উঠেছে। কবিতায় কায়কোবাদ বলেছেন, ‘আমিত্ব’কে বলি দিয়ে স্বার্থ ত্যাগ করতে হবে, নিজের সুখ ভুলে পরের অশ্রু মুছাতে ও ব্যথা ঘোচাতে হবে। উদ্দীপকে জব্বার ঠিক এর উল্টো পথে চলেছে। সে গোলা ভরে ফসল জমায়, কিন্তু প্রতিবেশীদের বিপদে এগিয়ে আসে না। সামান্য জমির সীমানা নিয়ে মামলা করা তার অহমিকা ও স্বার্থপরতারই প্রমাণ। কবির মতে এই ধরনের আমিত্বসর্বস্ব মানুষ সুখ পায় না। জব্বারের বৃদ্ধ বয়সের একাকিত্ব ও বিষণ্ণতা তাই কবিতার আদর্শ থেকে বিচ্যুতির ফল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুখ’ কবিতার “যা রোপিবে—তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি” চরণটির মর্মার্থ হলো, মানুষ জীবনে যেমন কর্ম করে তেমন ফলই পায়। এই আলোকে উদ্দীপকের দুই ভাইয়ের পরিণতি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। হারুন নিজের ফসল দিয়ে গরিব প্রতিবেশীদের সাহায্য করেছে এবং অবৈতনিক স্কুল চালু করেছে। অর্থাৎ সে অন্যের অভাব মোচনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে, যা কবির বর্ণিত পরহিত ও স্বার্থত্যাগের আদর্শ। তার এই কর্মফল হিসেবে বৃদ্ধ বয়সে সে মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা থাকে এবং আত্মিক শান্তি লাভ করে। কবির ভাষায়, ‘তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে’। অন্যদিকে জব্বার ফসল জমিয়েছে, প্রতিবেশীদের অবহেলা করেছে এবং মামলা-মোকদ্দমায় নিজের অহমিকা প্রকাশ করেছে। সে ধন-সম্পদকেই সুখের উৎস ভেবেছে, যা কবির মতে মরীচিকার মতো ছলনাময়। ফলে সে যা রোপণ করেছে—স্বার্থপরতা ও বিচ্ছিন্নতা—তারই ফল হিসেবে সম্পদের মাঝেও একা ও বিষণ্ণ থেকেছে। সুতরাং হারুনের সুখী পরিণতি ও জব্বারের বিষণ্ণ পরিণতি দুটিই কবিতার কর্মফলের দর্শনকে প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও