সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
রেজা সাহেব শহরের একটি কারখানার ম্যানেজার। মালিকের অন্যায় আদেশেও তিনি এতদিন মাথা নিচু করে সায় দিয়ে এসেছেন। একদিন মালিক শ্রমিকদের সবার সামনে অপমান করে গেটের বাইরে বের করে দিতে চাইলে রেজা সাহেব শান্তস্বরে বললেন, ‘আপনি শুধু ওদের নয়, আমাকেও অপমান করছেন। আমিও ওদেরই একজন।’ এরপর মালিকের চোখরাঙানিতে তিনি আর ভয় পান না। শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে কারখানার পরিবেশ বদলানোর লড়াইয়ে নেমে পড়েন।
- ক)(1)
রফিক কত দূর পড়াশোনা করেছে?
- খ)(2)
‘মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালে অনেকেই এরকম করবে।’—রফিক একথা বলেছে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের উক্তি ‘১৯৭১’ উপন্যাসের রফিকের কোন উক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রেজা সাহেবের পরিবর্তন রফিকের রূপান্তরের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।”—‘১৯৭১’ উপন্যাস অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রফিক পাসকোর্সে বিএ পাশ করেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেজর এজাজ বলেছিলেন, আজিজ মাস্টারের মতো বাঙালিদের কোনো আত্মসম্মান নেই। জবাবে রফিক এ কথা বলেছে। রফিকের মতে, মৃত্যুভয় মানুষকে দিশেহারা করে দেয় এবং মৃত্যুর সামনে কে কী করবে তা আগে থেকে বলা যায় না। তাই প্রাণ বাঁচাতে আজিজ মাস্টারের লজ্জাজনক শাস্তি মেনে নেওয়াকে সে কাপুরুষতা বা আত্মসম্মানহীনতা বলে মনে করেনি। এমনকি সাহসী মেজরও মৃত্যুর সামনে কাপুরুষের মতো আচরণ করতে পারেন বলে সে ইঙ্গিত দিয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রেজা সাহেবের উক্তি ‘১৯৭১’ উপন্যাসের রফিকের ‘আপনি শুধু ওকে লজ্জা দিচ্ছেন না, আপনি আমাকেও লজ্জা দিচ্ছেন। আমিও ওর মতো বাঙালি।’—এই উক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপন্যাসে মেজর এজাজ আজিজ মাস্টারকে নগ্ন করে গ্রামে ঘোরানোর আদেশ দিলে রফিক প্রতিবাদ করে। সে বলে, এতে শুধু আজিজ মাস্টার নয়, সে নিজেও অপমানিত হচ্ছে, কারণ সেও বাঙালি। উদ্দীপকে রেজা সাহেবও শ্রমিকদের অপমানকে নিজের অপমান বলে মনে করেছেন এবং নিজেকে তাদেরই একজন বলে পরিচয় দিয়েছেন। দুটি উক্তিতেই নিপীড়িত মানুষের সঙ্গে একাত্মতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। রেজা সাহেব ও রফিক দুজনেই প্রথমে অন্যায়ের কাছে নত থেকে পরে প্রতিবাদী হয়েছেন, তবু দুজনের রূপান্তরের গভীরতা ও পরিণতি এক নয়। ১. সাদৃশ্য: উপন্যাসের শুরুতে রফিক মেজরের দোভাষী হিসেবে তার আদেশ মেনে চলেছে। উদ্দীপকে রেজা সাহেবও মালিকের অন্যায় মেনে নিয়েছেন। পরে দুজনেই নিজেদের নিপীড়িত মানুষের একজন হিসেবে চিনতে পেরে প্রতিবাদ করেছেন। ২. ঝুঁকির মাত্রা: রেজা সাহেবের প্রতিবাদে চাকরি হারানোর ঝুঁকি ছিল। রফিক সেখানে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মেজরকে বলেছে, আজিজ মাস্টারকে লজ্জা দেওয়া ঠিক নয়। সে ইট ঝোলানোর আদেশ পালন করেনি। ৩. চূড়ান্ত পরিণতি: শেষ দৃশ্যে রফিক বুকপানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে হেসে ওঠে এবং মেজরকে বলে, তিনি জীবিত ফিরে যেতে পারবেন না। তার ভয়হীন এই রূপ দেখে মেজর তাকে চিনতে পারেন না। উদ্দীপকে এমন প্রাণের বাজি রাখার চিত্র নেই। ৪. গোপন ভূমিকা: রফিক বাইরে বশ্যতা দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে মেজরকে বিভ্রান্ত করেছে। রেজা সাহেবের পরিবর্তনে এমন দ্বৈত কৌশল নেই। সুতরাং রফিকের রূপান্তর রেজা সাহেবের চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও