তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
তানিম একটি দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তৈরি হিসাব ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার অনেক দাম দিয়ে কিনেছে। তার বন্ধু সাদিক সফটওয়্যারটির কপি করে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই ১০ জন পরিচিতকে বিনামূল্যে দিয়েছে এবং কিছু কপি বাজারে বিক্রি করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি কমে গেছে এবং প্রোগ্রামাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
- ক)(1)
পাইরেসি কী?
- খ)(2)
কম্পিউটারে তৈরি সৃজনশীল কর্মের কপিরাইট সংরক্ষণে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাদিকের কাজটি কীভাবে কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রামাররা হতাশ হয়ে পড়েছেন – কপিরাইট আইনের প্রয়োজনীয়তার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিরাইট আইনের আওতায় থাকা কোনো কপিরাইট হোল্ডারের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সফটওয়্যার বা সৃজনশীল কর্মের অবৈধ প্রতিলিপি তৈরি ও ব্যবহার করাকে পাইরেসি বা সফটওয়্যার পাইরেসি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুদ্রিত পুস্তক পুনর্মুদ্রণ করা ঝামেলাপূর্ণ ও ব্যয়বহুল, কিন্তু কম্পিউটারে যেকোনো কিছুর অবিকল প্রতিলিপি তৈরি করা খুবই সহজ। এমনকি এজন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন হয় না। তাই কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং কম্পিউটারে তৈরি ছবি, অ্যানিমেশন ইত্যাদির কপিরাইট সংরক্ষণের জন্য বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিরাইট আইনের আওতায় সফটওয়্যার নির্মাতা বা প্রতিষ্ঠান তাদের সফটওয়্যারের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে পারে। ফলে তাদের অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যারের প্রতিলিপি করা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। উদ্দীপকে সাদিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই সফটওয়্যারটির কপি করেছে। সে ১০ জনকে বিনামূল্যে কপি দিয়েছে এবং বাজারে বিক্রিও করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কপিরাইট হোল্ডার হিসেবে অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কপিরাইট হোল্ডারের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে কপিরাইট বিঘ্নিত হয়েছে বলে ধরা হয়, যা সফটওয়্যার পাইরেসি। বাংলাদেশেও সফটওয়্যার পাইরেসি নিষিদ্ধ। তাই সাদিকের কাজটি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সাদিকের অবৈধ কপির কারণে প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কমে গেছে, ফলে প্রোগ্রামাররা হতাশ। এখানে কপিরাইট আইনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। ১. মালিকানা ও স্বত্বাধিকার: কপিরাইট আইন সৃজনশীল কর্মের স্রষ্টাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সৃষ্টকর্মের ওপর মালিকানা দেয়। বাণিজ্যিক মূল্য থাকলে তা স্রষ্টাই পান, অন্যরা নন। ২. জীবিকার নিশ্চয়তা: প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার নির্মাতারা পরিশ্রম, মেধা ও অর্থ বিনিয়োগ করে সফটওয়্যার তৈরি করেন। বিক্রির মাধ্যমে তাঁদের বিনিয়োগের সুফল পাওয়া উচিত। উদ্দীপকে অবৈধ কপির কারণে তাঁরা তা পাচ্ছেন না। ৩. নিরুৎসাহিত হওয়া থেকে রক্ষা: কেউ যখন দেখেন তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও মেধার ফসল স্বীকৃতি বা মূল্য ছাড়া অন্যরা ব্যবহার করছে, তখন তিনি নিরুৎসাহিত হন। কপিরাইট আইন তাঁদের এই নিরুৎসাহ থেকে রক্ষা করে। সুতরাং, কপিরাইট আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ হলে প্রোগ্রামাররা হতাশ হতেন না এবং নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরিতে উৎসাহ পেতেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও