সহপাঠ • বহিপীর
সহপাঠ প্রশ্ন
জহির মিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে সরল মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ‘পবিত্র তাবিজ’ বিক্রি করেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে তিনি টাকাপয়সা ও উপঢৌকন আদায় করেন এবং সবাই তাঁকে ভয় ও ভক্তি করে। এক বাড়ির তরুণী তাঁর কথায় প্রভাবিত না হয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি প্রথমে ধর্মের দোহাই দেন, পরে সহানুভূতির ভান করেন। শেষে বুঝতে পারেন সুবিধা হবে না; তখন কোনো ঝামেলা না করে নিঃশব্দে চলে যান।
- ক)(1)
বহিপীরের সঙ্গী কে?
- খ)(2)
বহিপীরকে ‘বহিপীর’ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জহির মিয়ার সঙ্গে ‘বহিপীর’ নাটকের বহিপীরের কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“বহিপীর নেতিবাচক চরিত্র হলেও তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন।”— উদ্দীপকের আলোকে ‘বহিপীর’ নাটক থেকে উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বহিপীরের সঙ্গী হকিকুল্লাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বহিপীর সারা বছর বিভিন্ন জেলায় মুরিদদের বাড়ি ঘুরে বেড়ান। এক এক এলাকায় এক এক ধরনের ভাষা চালু থাকায় তিনি আঞ্চলিক ভাষা না শিখে সব জায়গায় বইয়ের ভাষায় কথা বলেন। তাঁর কাছে কথ্য ভাষা অপবিত্র ও গাম্ভীর্যহীন মনে হয়। বইয়ের ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁর নাম হয়েছে বহিপীর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জহির মিয়ার সঙ্গে বহিপীরের মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিল করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে। নাটকে বহিপীর অশিক্ষিত সাধারণ মানুষের কুসংস্কার ও ধর্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মব্যবসা পরিচালনা করেন। সারা বছর মুরিদদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তিনি অর্থসম্পদ সংগ্রহ করেন এবং মুরিদরা তাঁকে ভয় ও মান্য করে, এমনকি নিজের কন্যাকেও তাঁর হাতে তুলে দেয়। উদ্দীপকেও জহির মিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তাবিজ বিক্রি করেন এবং টাকাপয়সা আদায় করেন। দুজনের কর্মপদ্ধতি ও উদ্দেশ্য একই।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বহিপীর স্বার্থের হিসাবে জীবনকে গণনা করেন বলে তিনি নেতিবাচক চরিত্র। তবে তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও বাস্তবজ্ঞানও নাটকে স্পষ্ট। উদ্দীপকের জহির মিয়ার আচরণে এর আংশিক প্রতিফলন দেখা যায়। ১. কৌশল পরিবর্তন: উদ্দীপকে জহির মিয়া তরুণীর প্রতিবাদে প্রথমে ধর্মের দোহাই, পরে সহানুভূতির ভান করেন। বহিপীরও তাহেরাকে ফিরে পেতে প্রথমে ধর্মীয় বিয়ের দোহাই দেন। তাহেরা পাল্টা যুক্তি দিলে তিনি মানবিকতার বাহানা করেন; বলেন, মেয়েটি কখনো স্নেহ-মমতা পায়নি, তাঁর কাছে পেলে বুঝবে। ২. সুযোগ গ্রহণ: বহিপীর জমিদার হাতেম আলির অসহায়তার সুযোগ নিয়ে টাকা ধারের বিনিময়ে তাহেরাকে ফেরত চান। এটি তাঁর ধূর্ততা ও চালাকির প্রমাণ। উদ্দীপকে এ ধরনের সুযোগ গ্রহণের উল্লেখ নেই। ৩. বাস্তবতা মেনে নেওয়া: পুলিশের আশ্রয় নেওয়ার ভান করলেও তিনি জানেন, এতে অনেক ঝামেলা, তাই ওই পথে এগোননি। শেষে তাহেরা ও হাশেম আলি পালিয়ে গেলে তিনি বাস্তবতা মেনে নেন এবং তাদের তাড়া করতে নিষেধ করেন। উদ্দীপকের জহির মিয়াও সুবিধা হবে না বুঝে নিঃশব্দে সরে যান। এ দিকেই দুজনের বাস্তবজ্ঞানের মিল। এভাবে দেখা যায়, বহিপীর স্বার্থপর ও ধর্মব্যবসায়ী হলেও ধৈর্যশীল, বুদ্ধিমান ও বাস্তববাদী। উদ্দীপকে বহিপীরের কৌশলের বিস্তৃতির সবটুকু নেই, তবে মূল বৈশিষ্ট্যগুলো আছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও