জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর আচরণ

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

সুন্দরবনের কাছের এক সৈকতে সামুদ্রিক কাছিমের কিছু ডিম সংগ্রহ করে একটি হ্যাচারিতে ফোটানো হলো। ছানাগুলো জীবনে মা-কাছিমকে দেখেনি, তবু ডিম ফুটে বের হয়েই সবগুলো ছানা অন্য কোনো দিকে না গিয়ে সোজা সাগরের পানির দিকে ছুটল। একটি ছানাকে সাগরের উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিলে সে খানিক থমকে আবার সাগরের দিকে ছুটে গেল। ডারউইন ও লরেঞ্জ উভয়ই এ ধরনের আচরণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।

  1. ক)

    ইনস্টিংক্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    সহজাত রিলিজিং পদ্ধতি (IRM) বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কাছিমছানার আচরণে লরেঞ্জ নির্ধারিত FAP-এর কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আচরণটিকে ইনস্টিংক্ট হিসেবে ব্যাখ্যা করতে ডারউইন ও লরেঞ্জের ধারণার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জন্মগত যে শক্তির সাহায্যে একটি প্রজাতির সকল সদস্য কোনো শিক্ষণ ছাড়া এবং উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্বন্ধে অবহিত না থেকে আত্মরক্ষা ও প্রজাতিরক্ষায় বংশপরম্পরায় একইভাবে কাজ করে, তাকে ইনস্টিংক্ট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিলিজিং উদ্দীপনার মাধ্যমে যে বার্তার সৃষ্টি হয় তা অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের একটি কেন্দ্রে বাহিত হয়। এই কেন্দ্র সুনির্দিষ্ট বার্তার প্রতি নির্দিষ্ট সাড়া দেয় এবং নির্দিষ্ট পেশিকে সংকোচন-প্রসারণের নির্দেশ পাঠায়। এই প্রক্রিয়াকেই সহজাত রিলিজিং পদ্ধতি বা IRM বলে। এর ফলেই একটি স্থায়ী অ্যাকশন প্যাটার্ন (FAP) প্রকাশ পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লরেঞ্জের মানদণ্ড অনুযায়ী উদ্দীপকের আচরণে নিম্নলিখিত FAP-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে: ১. ছাঁচসম্মত (Stereotypy): সব ছানাই একইভাবে সাগরের পানির দিকে ছুটেছে, আচরণটি প্রতিবার একই রকম। ২. সার্বজনীনতা (Universality): হ্যাচারির সকল ছানাই, এমনকি পৃথিবীর সব সামুদ্রিক কাছিমের ছানাই, এ আচরণ প্রদর্শন করে, অর্থাৎ এটি প্রজাতির সকল সদস্যে দেখা যায়। ৩. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বহির্ভূত: ছানাগুলো মা-কাছিমকে না দেখে এবং কোনো শিক্ষণ ছাড়াই এ কাজ করেছে, তাই আচরণটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলো আচরণটির জিনগতভাবে নির্ধারিত FAP হওয়ার প্রমাণ দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কাছিমছানার সাগরমুখী ছুটে যাওয়া একটি ইনস্টিংক্টিভ আচরণ, যা সহজাত এবং শিক্ষণ ছাড়াই বংশপরম্পরায় একইভাবে প্রকাশিত হয়। এই আচরণ ব্যাখ্যায় দুজন বিজ্ঞানীর ধারণা নিম্নরূপ: ১. ডারউইনের ধারণা (১৮৫৯): তিনিই সর্বপ্রথম ইনস্টিংক্টের বাস্তবমুখী সংজ্ঞা দেন। তাঁর মতে ইনস্টিংক্ট হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা এক জটিল প্রতিবর্ত। এতে প্রচ্ছন্নভাবে বলা হয়েছে যে উত্তরাধিকার সূত্রে আগত সাড়াদানের প্রক্রিয়াতেই ইনস্টিংক্টের প্রকাশ। ২. লরেঞ্জের ধারণা (১৯৩৭): তিনি ডারউইনের বক্তব্য মেনে নিলেও ভিন্নমত পোষণ করে বলেন যে প্রতিটি প্রাণী-প্রজাতির আচরণ কতকগুলো স্থায়ী অ্যাকশন প্যাটার্ন বা FAP নিয়ে গঠিত, যা প্রজাতি-নির্দিষ্ট ও জিনগতভাবে নির্ধারিত। তাঁর মতে প্রতিটি FAP-ই ইনস্টিংক্ট এবং প্রাণিদেহে অনেক ইনস্টিংক্ট কেন্দ্র রয়েছে। টিনবারগেন (১৯৫১) লরেঞ্জের ধারণাকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন করেছেন। ৩. তুলনা ও প্রয়োগ: ডারউইন ইনস্টিংক্টকে প্রতিবর্তের একটি জটিল রূপ ধরে নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখেছেন; আর লরেঞ্জ একে নির্দিষ্ট, অপরিবর্তনীয় ও জিন-নির্ধারিত FAP হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। উদ্দীপকে হ্যাচারির সব ছানা মাকে না দেখেও একই আচরণ করেছে, যা লরেঞ্জের FAP ধারণাকে সরাসরি সমর্থন করে; আবার এই আচরণ প্রজাতির টিকে থাকার উপযোগী বলে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের ধারণাও এখানে প্রযোজ্য। সুতরাং দুটি ধারণা পরস্পর বিরোধী নয়, বরং পরিপূরক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও