বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একাত্তরের ডায়েরি নামের একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে দেখানো হলো, ২৬শে মার্চ একদল বেতার শিল্পী ও কর্মী একটি কেন্দ্র চালু করেন। সেখান থেকে প্রতিদিন সংবাদ, দেশের গান ও যোদ্ধাদের সাহসের গল্প প্রচারিত হতো। এ কেন্দ্র শুনে গ্রামের মানুষ মনোবল ফিরে পেত এবং রণক্ষেত্রের যোদ্ধারাও সাহস পেত। একই সময়ে প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে একটি পত্রিকাও নিয়মিত প্রকাশিত হতো।

  1. ক)

    ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা কার তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হতো?

    (1)
  2. খ)

    স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কীভাবে চালু হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বেতার কেন্দ্র ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরা আর কীভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদান ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পথ কঠিন হতো’ – উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হতো।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এ কেন্দ্র থেকে সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা প্রচারিত হতো। এভাবে এটি সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বেতার কেন্দ্রটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা আরও নানাভাবে অবদান রাখেন।

    তাঁরা পত্র-পত্রিকায় লেখা লিখেছেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ করেছেন, দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান গেয়েছেন এবং কবিতা পাঠ, নাটক ও কথিকা পরিবেশন করেছেন। ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এসব কর্মকাণ্ড রণক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রেখেছে এবং জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করে তুলেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বক্তব্যটি যথার্থ। যুদ্ধ কেবল অস্ত্রে নয়, মনোবলেও জেতা হয়, আর মুক্তিযুদ্ধে সেই মনোবল জোগানোর কাজ করেছে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

    ১. মনোবল ও প্রেরণা: উদ্দীপকের বেতার কেন্দ্রের মতো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান ও বীরত্বগাথা প্রচার করে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিল।

    ২. সঠিক তথ্য প্রচার: রণাঙ্গনের নানা ঘটনা দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরার কাজটি করেছে বেতার কেন্দ্র। মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকাও মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছে।

    ৩. সংস্কৃতির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ: গান, কবিতা, নাটক, কথিকা এবং ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’-এর মতো অনুষ্ঠান জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করে তুলেছিল।

    তবে মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ এবং সরাসরি যুদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। তথাপি গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রেখে ও মনোবল জুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করেছেন। সুতরাং বক্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও