জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

বিজ্ঞান মেলায় তানিয়া একটি বন্ধ কাচের জারে পরিষ্কার পানি, সামান্য কাদামাটি, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (Spirulina), জুপ্ল্যাঙ্কটন (Daphnia), দুটি ছোট মলা মাছ ও মাটির ব্যাকটেরিয়া রেখে জারটি জানালার পাশে সূর্যালোকে রাখল। কয়েক মাস পরেও জারের জীবগুলো সুস্থভাবে বেঁচে আছে।

  1. ক)

    বন্ধ ইকোসিস্টেম কী?

    (1)
  2. খ)

    ইকোসিস্টেমে শক্তি বাইরে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পেতে হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জারে উপস্থিত জীব উপাদানগুলোকে উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজকে ভাগ করে উদাহরণসহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    জারটির মাটির ব্যাকটেরিয়া না থাকলে এর ইকোসিস্টেম বেশিদিন টিকে থাকত না— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে ইকোসিস্টেম পুষ্টি উপাদান চারপাশের পরিবেশের সাথে বিনিময় করে না, তাকে বন্ধ ইকোসিস্টেম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইকোসিস্টেমে পুষ্টি উপাদান বারবার রিসাইকল হয়, কিন্তু শক্তি রিসাইকল হয় না। খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শক্তি শ্বসনের মাধ্যমে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে ইকোসিস্টেম থেকে হারিয়ে যায়, জীবজগৎ তা আর ফিরে পায় না। তাই ইকোসিস্টেমকে টিকিয়ে রাখতে বাইরে থেকে অর্থাৎ সূর্য থেকে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি পেতে হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জারটি একটি ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্র, যার জীব উপাদানগুলো নিম্নরূপ:
    ১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করে। জারের Spirulina (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) উৎপাদক।
    ২. খাদক: উৎপাদক খেয়ে যারা বেঁচে থাকে। জারের Daphnia (জুপ্ল্যাঙ্কটন) ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খায়, তাই এটি প্রাথমিক খাদক। মলা মাছ জুপ্ল্যাঙ্কটন খায়, তাই এটি সেকেন্ডারি খাদক।
    ৩. বিয়োজক: মৃত জীবদেহ পচিয়ে জৈব ও অজৈব পদার্থে রূপান্তর করে। জারের মাটির ব্যাকটেরিয়া বিয়োজক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো ইকোসিস্টেম দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে তিনটি বিষয় প্রয়োজন: পুষ্টির প্রাপ্যতা, বর্জ্য পদার্থের বিষাক্ততা নাশ এবং শক্তির প্রাপ্যতা। উদ্দীপকের জারে ব্যাকটেরিয়া বিয়োজকের ভূমিকা পালন করছে, যা না থাকলে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিত:
    ১. পুষ্টির রিসাইকল বন্ধ হতো: মরা মাছ, প্ল্যাঙ্কটন ও বর্জ্য ব্যাকটেরিয়া এনজাইমের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে জৈব ও অজৈব পদার্থে রূপান্তর করে। জারটি বন্ধ হওয়ায় বাইরে থেকে পুষ্টি আসে না। বিয়োজক না থাকলে মৃতদেহে আবদ্ধ কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস প্রভৃতি উপাদান ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন আর পেত না, ফলে উৎপাদক হ্রাস পেত এবং পুরো খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ত।
    ২. বিষাক্ত বর্জ্য জমত: বিয়োজকের নিঃসৃত অ্যামোনিয়া বিষাক্ত, কিন্তু Nitrosomonas জাতীয় ব্যাকটেরিয়া তা গ্রহণ করে শক্তির জন্য ব্যবহার করে। ব্যাকটেরিয়া না থাকলে অ্যামোনিয়া জমে জারের মাছ ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের মৃত্যু ঘটাত।
    ৩. খাদ্য শৃঙ্খল বন্ধ হতো: বিয়োজক না থাকলে খাদ্য শৃঙ্খল বন্ধ হয়ে যায়।
    তাই শুধু সূর্যালোক থাকলেও ব্যাকটেরিয়া না থাকলে জারটির ইকোসিস্টেম বেশিদিন টিকে থাকত না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও