ভূগোল ১ম পত্র • ব্যবহারিক: মানচিত্র ও স্কেল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি জেলার মানচিত্র ১ : ৫০,০০০ স্কেলে আঁকা, যার আকার ২০ সে.মি. × ১৬ সে.মি.। শিক্ষার্থী সুমন মানচিত্রটিকে ১ : ১,০০,০০০ স্কেলে নতুন কাগজে আঁকতে চায়। সে মূল মানচিত্রকে ২ সে.মি. বাহুবিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রে ভাগ করে নিল।
- ক)(1)
মানচিত্র সংকোচন কাকে বলে?
- খ)(2)
ছক বা বর্গ পদ্ধতিতে মানচিত্র সম্প্রসারণ ও সংকোচন কীভাবে করা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মানচিত্রটি কতগুণ সংকুচিত হবে তা নির্ণয় করো এবং নতুন মানচিত্রের আকার ও বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য বের করো।
- ঘ)(4)
সংকোচনের ফলে উদ্দীপকের মানচিত্রে ভূমির প্রকৃত দূরত্ব ও মানচিত্রে প্রদর্শিত স্কেলের ওপর কী প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো নির্দিষ্ট স্কেলের মানচিত্রের আকার ও আয়তন ছোট করাকে মানচিত্র সংকোচন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এই পদ্ধতিতে প্রথমে মূল মানচিত্রকে নির্দিষ্ট মাপের বাহুবিশিষ্ট বর্গক্ষেত্রে ভাগ করা হয়। এরপর নতুন মানচিত্রের স্কেল অনুসারে অন্য কাগজে সমসংখ্যক ছোট বা বড় বর্গক্ষেত্র আঁকা হয়। নতুন স্কেলকে পুরোনো স্কেল দিয়ে ভাগ করে মানচিত্র কতগুণ বড় বা ছোট হবে তা নির্ণয় করা হয়। পরে মূল মানচিত্রের প্রতিটি বর্গের অন্তর্গত রেখা ও বিন্দু নতুন বর্গে স্থানান্তর করে মানচিত্রটি আঁকা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুরোনো স্কেল ১ : ৫০,০০০ = ১/৫০,০০০
নতুন স্কেল ১ : ১,০০,০০০ = ১/১,০০,০০০
রূপান্তর গুণক = নতুন স্কেল ÷ পুরোনো স্কেল = (১/১,০০,০০০) ÷ (১/৫০,০০০) = ৫০,০০০/১,০০,০০০ = ১/২
অতএব, মানচিত্রটি অর্ধেক বা ১/২ গুণ সংকুচিত হবে।নতুন মানচিত্রের আকার = (২০ × ১/২) সে.মি. × (১৬ × ১/২) সে.মি. = ১০ সে.মি. × ৮ সে.মি.
নতুন বর্গের বাহুর দৈর্ঘ্য = ২ × ১/২ = ১ সে.মি.
মূল মানচিত্রে বর্গের সংখ্যা = (২০ ÷ ২) × (১৬ ÷ ২) = ১০ × ৮ = ৮০টি। নতুন মানচিত্রেও ১ সে.মি. বাহুর ৮০টি বর্গ থাকবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মানচিত্রটি ১ : ৫০,০০০ থেকে ১ : ১,০০,০০০ স্কেলে সংকুচিত করা হচ্ছে।
১. ভূমির প্রকৃত দূরত্ব: মানচিত্র আঁকার স্কেল বদলালেও ভূমির প্রকৃত দূরত্ব বদলায় না। মূল মানচিত্রে ২০ সে.মি. দৈর্ঘ্য = ২০ × ৫০,০০০ = ১০,০০,০০০ সে.মি. = ১০ কি.মি.। নতুন মানচিত্রে ১০ সে.মি. দৈর্ঘ্য = ১০ × ১,০০,০০০ = ১০,০০,০০০ সে.মি. = ১০ কি.মি.। একইভাবে ১৬ সে.মি. = ৮ কি.মি. এবং ৮ সে.মি. = ৮ কি.মি.। অর্থাৎ জেলার প্রকৃত আকার অপরিবর্তিত থাকে।
২. মানচিত্রের মাপ: মানচিত্রের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অর্ধেক হওয়ায় ক্ষেত্রফল হবে মূলটির এক-চতুর্থাংশ। মূল ক্ষেত্রফল ২০ × ১৬ = ৩২০ বর্গ সে.মি., নতুন ক্ষেত্রফল ১০ × ৮ = ৮০ বর্গ সে.মি.।
৩. স্কেলের ওপর প্রভাব: মানচিত্র ছোট করলে বর্ণনামূলক স্কেল (যেমন ১ সে.মি. = ০.৫ কি.মি.) নতুন মানচিত্রের জন্য অকেজো হয়ে যায়, কারণ নতুন মানচিত্রে ১ সে.মি. = ১ কি.মি.। অন্যদিকে রৈখিক (রেখাচিত্র) স্কেল মানচিত্রের সাথে সাথে ছোট হয়ে যায় বলে তা সঠিক থাকে। প্রতিভূ অনুপাত নতুন করে ১ : ১,০০,০০০ লিখতে হয়।
সুতরাং সংকোচনে ভূমির প্রকৃত দূরত্ব অপরিবর্তিত থাকে, কিন্তু মানচিত্রের আকার কমে যায় এবং স্কেল নতুনভাবে নির্ধারণ করতে হয়; রৈখিক স্কেল ব্যবহার করলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও