জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মিঠু সাহেবের ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি পুকুরে ১০০০টি রুই ও ২০০টি কাতলা মাছ আছে। পুকুরের পানিতে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং পাড়ে কচুরিপানা ও কলমিলতা জন্মায়। বর্ষায় জুপ্ল্যাঙ্কটনের সংখ্যা বাড়ে, শীতে কমে যায়। পুকুরের প্রতিটি জীব খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
- ক)(1)
বায়োস্ফিয়ার কী?
- খ)(2)
কোনো জীবগোষ্ঠী তার প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তিকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজে লাগাতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রুই মাছের জীবগোষ্ঠীর ঘনত্ব নির্ণয় কর এবং এটি জীবগোষ্ঠী কিন্তু জীব সম্প্রদায় নয় কেন, তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে জীব সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সব জীবের সব কমিউনিটি মিলিতভাবে যে জীবমণ্ডল তৈরি করে, তাকে বায়োস্ফিয়ার (জীবমণ্ডল) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবেশে কোনো জীবগোষ্ঠী সর্বাধিক যতটা বাড়তে পারে, তাকে প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তি বলে। কিন্তু প্রকৃতিতে খাদ্য, আশ্রয়, জলবায়ু ও অন্যান্য পরিবেশীয় প্রভাব জীবগোষ্ঠীর বৃদ্ধিকে সীমিত রাখে। একে সীমিতকরণ শক্তি বলে। এই সীমিতকরণ শক্তির কারণেই কোনো জীবগোষ্ঠী তার প্রচ্ছন্ন সংখ্যাবৃদ্ধি শক্তিকে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজে লাগাতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর একটি সময়ে একক আয়তন জায়গায় কোনো প্রজাতির সদস্যসংখ্যাকে জীবগোষ্ঠীর ঘনত্ব বলে।
রুই মাছের ঘনত্ব = মোট রুই মাছ ÷ পুকুরের আয়তন = ১০০০ ÷ ৫০০ = ২ টি/বর্গমিটার।
একটি নির্দিষ্ট স্থানে একই সময়ে বসবাসকারী একই প্রজাতির একদল জীবকে জীবগোষ্ঠী বলে। পুকুরের ১০০০টি রুই মাছ একই প্রজাতির এবং একই স্থানে একই সময়ে আছে, তাই এটি একটি জীবগোষ্ঠী। কিন্তু জীব সম্প্রদায় গঠিত হয় একই স্থানের সব প্রজাতির সব জীবগোষ্ঠী নিয়ে। শুধু রুই মাছ পুকুরের একটি প্রজাতি মাত্র, কাতলা, প্ল্যাঙ্কটন, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই রুই মাছের দল জীব সম্প্রদায় নয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের পুকুরটি একটি জীব সম্প্রদায়, কারণ একই স্থানে ও একই পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির জীব এখানে পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে বাস করে। জীব সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্দীপকের সাথে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রজাতির বিভিন্নতা: পুকুরে রুই, কাতলা, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন, ব্যাকটেরিয়া, কচুরিপানা, কলমিলতা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রজাতি আছে। এরা খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য পরস্পর এবং জড় পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।
২. বৃদ্ধির ধরন ও গঠন: ভাসমান প্ল্যাঙ্কটন, সাঁতারু মাছ, পাড়ের লতানো কলমিলতা ও ভাসমান কচুরিপানার বৃদ্ধির ধরন ও গঠন আলাদা, যা সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য।
৩. খাদ্যস্তর গঠন: পুকুরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন উৎপাদক, জুপ্ল্যাঙ্কটন প্রাথমিক খাদক, মাছ খাদক এবং ব্যাকটেরিয়া বিয়োজক। ফলে খাদ্য শৃঙ্খল ও শক্তি প্রবাহ নিশ্চিত হয় এবং সম্প্রদায় পুষ্টির দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
৪. সময়ের সাথে সম্প্রদায়ের পরিবর্তন: বর্ষায় জুপ্ল্যাঙ্কটন বাড়ে, শীতে কমে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে প্রজাতির সংখ্যার এই হ্রাস-বৃদ্ধি জীব সম্প্রদায়ের একটি বৈশিষ্ট্য।
৫. আধিপত্য: সংখ্যায় বেশি হওয়ায় রুই মাছ এই সম্প্রদায়ে তুলনামূলকভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে বলে ধরা যায়।
সুতরাং উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতির কারণে উদ্দীপকের পুকুরটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীব সম্প্রদায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও