বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

আয়েশার চাচা নরওয়ের ৭০° উত্তর অক্ষাংশের একটি গবেষণাকেন্দ্রে কাজ করেন। জুন মাসে তিনি ফোনে জানান, সেখানে সূর্য অস্ত যায় না, রাতেও সূর্যের আলো থাকে। আয়েশার খালা একই সময়ে অ্যান্টার্কটিকার ৭০° দক্ষিণ অক্ষাংশের একটি কেন্দ্রে আছেন। তিনি জানান, সেখানে সূর্যের মুখ দেখাই যাচ্ছে না। আয়েশা জানতে চাইলো, বছরের অন্য সময়ে এ দুই স্থানের অবস্থা কেমন থাকবে।

  1. ক)

    সুমেরুবৃত্ত কত ডিগ্রি অক্ষাংশে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জুন মাসে আয়েশার চাচার গবেষণাকেন্দ্রে সূর্য অস্ত না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নিচের ছকটি পূরণ করে ২১শে জুন, ২৩শে সেপ্টেম্বর ও ২২শে ডিসেম্বর তারিখে উদ্দীপকের দুটি স্থানের দিবারাত্রির অবস্থা তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করো।

    তারিখ৭০° উত্তর৭০° দক্ষিণ
    ২১শে জুন??
    ২৩শে সেপ্টেম্বর??
    ২২শে ডিসেম্বর??
    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমেরুবৃত্ত ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ২৩শে সেপ্টেম্বর পৃথিবী কক্ষপথের এমন এক স্থানে অবস্থান করে যেখানে উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকে। এ দিন সূর্যরশ্মি নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে, সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্তে ৬৬.৫° কোণে এবং মেরুদ্বয়ে ০° কোণে পড়ে। ফলে আলো ও অন্ধকারের বৃত্ত সব অক্ষাংশকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। তাই পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জুন মাসে, বিশেষ করে ২১শে জুন, পৃথিবী কক্ষপথের এমন অবস্থানে থাকে যেখানে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সর্বাধিক ২৩.৫° ঝুঁকে থাকে। তখন সূর্যরশ্মি কর্কটক্রান্তিতে লম্বভাবে পড়ে এবং উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়।

    এ সময় সুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° উত্তর) থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা দিন থাকে। চাচার কেন্দ্র ৭০° উত্তরে, অর্থাৎ সুমেরুবৃত্তের উত্তরে অবস্থিত। তাই পৃথিবী আবর্তন করলেও এ অঞ্চল আলোকিত অংশের মধ্যেই থাকে এবং সূর্য অস্ত যায় না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ছক পূরণ:

    তারিখ৭০° উত্তর৭০° দক্ষিণ
    ২১শে জুন২৪ ঘণ্টা দিন২৪ ঘণ্টা রাত
    ২৩শে সেপ্টেম্বরদিন ও রাত সমানদিন ও রাত সমান
    ২২শে ডিসেম্বর২৪ ঘণ্টা রাত২৪ ঘণ্টা দিন

    বিশ্লেষণ: ২১শে জুন উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ মেরু সবচেয়ে দূরে থাকে। তাই সুমেরুবৃত্তের উত্তরে ৭০° উত্তরে ২৪ ঘণ্টা দিন থাকে, আর কুমেরুবৃত্তের দক্ষিণে ৭০° দক্ষিণে ২৪ ঘণ্টা রাত থাকে। এটি উদ্দীপকের বর্ণনার সঙ্গে মেলে।

    ২৩শে সেপ্টেম্বর উভয় মেরু সূর্য থেকে সমান দূরে থাকায় পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান হয়, তাই দুটি স্থানেই দিন ও রাত সমান।

    ২২শে ডিসেম্বর দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। ফলে অবস্থা উল্টে যায়। কুমেরুবৃত্তের দক্ষিণে ৭০° দক্ষিণে ২৪ ঘণ্টা দিন এবং ৭০° উত্তরে ২৪ ঘণ্টা রাত থাকে।

    অতএব দুই গোলার্ধে একই তারিখে দিবারাত্রির অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত হয়, শুধু বিষুবের দিনে (২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর) উভয় স্থানে সমান হয়। এর কারণ পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং অক্ষের হেলে থাকা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও