সাহিত্য পাঠ • ফুল্লরার বারোমাস্যা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মফস্বল শহরের রিকশাচালক মজিদ মিয়ার সংসারে টানাটানি চলছিল। হঠাৎ ঘরের চাল শেষ হয়ে গেলে সে স্ত্রীর বিয়ের সময় পাওয়া পিতলের কলসটি মহাজনের কাছে বন্ধক দিয়ে আধা সের চাল আনে। সেদিন ভাতের বদলে রাতে তারা শুধু মাড় আর লবণ দিয়ে খায়। স্ত্রী ভাবে, অভাবের দিনে এবার বন্ধক দেওয়ার মতো আর কিছুই রইল না।

  1. ক)

    ‘আমানি’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “চালু সেরে বান্ধা দিনু মাটির পাথরা।”— চরণটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মজিদ মিয়ার সংসারের ঘটনায় ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র ফুল্লরার জীবনের যে বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “দারিদ্র্যের চরম রূপ প্রকাশে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’ উদ্দীপকের তুলনায় অধিক ব্যাপক।”— যুক্তিসহ আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘আমানি’ শব্দের অর্থ পান্তাভাতের পানি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চৈত্র মাসের প্রচণ্ড খরায় ফুল্লরার ঘরে খাবারের কোনো সংস্থান ছিল না। চাল সংগ্রহ করার জন্য সে তার মাটির পাত্র বন্ধক রেখেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তার ঘরে মূল্যবান কিছু ছিল না, সামান্য মাটির পাত্রটিই বন্ধক রাখার মতো জিনিস ছিল। চরণটিতে ফুল্লরার চরম দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মজিদ মিয়ার সংসারের ঘটনায় ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র ফুল্লরার জীবনের চরম খাদ্যসংকট ও বন্ধক দিয়ে ক্ষুধা মেটানোর বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতায় চৈত্রের খরার সময় ফুল্লরার ঘরে খাবার না থাকায় সে “চালু সেরে বান্ধা দিনু মাটির পাথরা” অর্থাৎ চালের জন্য নিজের মাটির পাত্র বন্ধক দেয়। উদ্দীপকেও ঘরের চাল ফুরিয়ে গেলে মজিদ মিয়া স্ত্রীর পিতলের কলস মহাজনের কাছে বন্ধক দিয়ে চাল সংগ্রহ করে। দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের ব্যবহার্য জিনিস বন্ধক দিয়ে পেটের ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা দেখা যায়। এছাড়া মজিদ মিয়ার পরিবার ভাতের বদলে মাড়-লবণ খেয়ে দিন কাটায়, আর ফুল্লরার ঘরেও আমানি খাওয়ার মতো অভাবের চিত্র আছে। এভাবে দুজনের জীবনেই অভাব এতটাই তীব্র যে ঘরের সামান্য জিনিস বন্ধক রেখেও দুবেলা খাবার জোটানো কঠিন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দারিদ্র্যের চরম রূপ প্রকাশে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’ উদ্দীপকের তুলনায় অধিক ব্যাপক— মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে মজিদ মিয়ার সংসারের একটি নির্দিষ্ট দিনের সংকট চিত্রিত হয়েছে। চাল ফুরিয়ে যাওয়ায় সে স্ত্রীর পিতলের কলস বন্ধক দিয়ে চাল আনে এবং মাড়-লবণ খেয়ে রাত কাটায়। অর্থাৎ এখানে দারিদ্র্য একটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে বছরের বারো মাসজুড়ে দারিদ্র্যের নানা রূপ ফুটে উঠেছে। বৈশাখে ঝড়ে ভাঙা কুঁড়েঘর, জ্যৈষ্ঠে বেঙচেরে ফল খেয়ে উপবাস, আষাঢ়ে খুদ-কুড়ায় পেট না ভরা, শ্রাবণে বৃষ্টিতে জোঁকের কামড় সহ্য করা, আশ্বিনে উৎসবের মাঝেও পেটের চিন্তা, কার্তিকে হরিণের ছাল পরে শীত নিবারণ, পউষে পুরনো খোসলার ধুলা, আর চৈত্রে মাটির পাত্র বন্ধক ও আমানি খাওয়ার গর্ত— এভাবে খাদ্য, বস্ত্র ও আশ্রয় সব ক্ষেত্রের অভাব ধরা পড়েছে। ফলে একটি সংকটের বদলে পুরো বছরের স্থায়ী ও চক্রাকার দারিদ্র্যের ছবি এখানে পাওয়া যায়। উদ্দীপকের মজিদ মিয়ার ঘটনা সেই ছবির একটি অংশের সঙ্গে মেলে মাত্র। সুতরাং ‘ফুল্লরার বারোমাসী’ অধিক ব্যাপক, এ মন্তব্য যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও