সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নদীতীরের গ্রামে প্রতি বছর ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। গত বছর কোনো পুরস্কার ছিল না; ধনী-গরিব, কৃষক-দিনমজুরের ছেলে সবাই একসঙ্গে মাঠে নেমে খেলার আনন্দে মেতেছিল। এ বছর আয়োজক ঘোষণা করেছেন, চ্যাম্পিয়ন দল পাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা। ফলে প্রতিটি দল যেকোনো উপায়ে জিততে চায়, খেলায় মারামারি হয় এবং রেফারিকে ঘিরে ধরা হয়। অনেক দর্শকও আনন্দ না পেয়ে মন খারাপ করে ফিরে যায়।

  1. ক)

    ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধ অনুসারে জুয়াখেলা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “এ আনন্দে সকলেরই অধিকার সমান।”— কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের এ বছরের টুর্নামেন্ট ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের দৃষ্টিতে ‘খেলা’ না হয়ে জুয়াখেলার কাছাকাছি— ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের গত বছরের টুর্নামেন্টে ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত খেলার আদর্শ পুরোপুরি ফুটে উঠেছে”— মন্তব্যটি যথার্থ কি না, যুক্তিসহ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওয়ার আশা আছে, প্রবন্ধ অনুসারে তাকেই জুয়াখেলা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খেলার আনন্দ উদ্দেশ্যহীন ও অর্থহীন; তাই তা কারও একার সম্পদ হতে পারে না। প্রমথ চৌধুরী বলেছেন, মানুষ যখন খেলে তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো ফল আকাঙ্ক্ষা করে না। যেহেতু এ আনন্দের সঙ্গে কোনো স্বার্থ বা লাভ জড়িত নেই, সেহেতু একজন বেশি আর অন্যজন কম দাবি করার সুযোগ থাকে না। খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ-শূদ্র কিংবা ধনী-দরিদ্রের ভেদও নেই। এ কারণেই বলা হয়েছে, এ আনন্দে সকলের অধিকার সমান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরীর মতে খেলার একমাত্র লক্ষ্য আনন্দ; যে খেলায় আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওয়ার আশা আছে, তা খেলা নয়, জুয়াখেলা। উদ্দীপকে এ বছর চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের লক্ষ্য খেলার আনন্দ উপভোগ নয়, বরং পুরস্কারের অর্থ লাভ। এজন্য তারা যেকোনো উপায়ে জিততে চায়, মারামারি করে, রেফারিকে ঘিরে ধরে। এমনকি দর্শকরাও আনন্দ পায়নি। অর্থাৎ আনন্দের জায়গা নিয়েছে উপরি পাওয়ার লোভ, যা প্রবন্ধের সংজ্ঞা অনুযায়ী জুয়াখেলার লক্ষণ। তাই এ বছরের টুর্নামেন্ট প্রকৃত খেলা নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে খেলার আদর্শ হিসেবে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। প্রথমত, ক্রীড়া উদ্দেশ্যহীন বলেই সকল ক্রিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ; মানুষ খেলে কেবল আনন্দের জন্য। গত বছরের টুর্নামেন্টে কোনো পুরস্কার ছিল না, তাই খেলোয়াড়রা শুধু আনন্দের টানেই মাঠে নেমেছিল। দ্বিতীয়ত, লেখকের মতে খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের ভেদ নেই, রাখাল ও দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেওয়ার অধিকার আছে। উদ্দীপকে ধনী-গরিব, কৃষক-দিনমজুরের ছেলেরা একসঙ্গে খেলেছে, যা এ সমানাধিকারের প্রতিফলন। তৃতীয়ত, প্রবন্ধে বলা হয়েছে খেলার আনন্দ কারও নিজস্ব নয়, সকলের সমান; গত বছর সবাই সেই আনন্দ ভাগ করে নিয়েছে। অবশ্য প্রবন্ধে খেলার উদাহরণ মূলত সাহিত্যসৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য এসেছে, উদ্দীপকে সে সাহিত্যিক দিক নেই। কিন্তু খেলার যে আদর্শ প্রবন্ধে বর্ণিত হয়েছে, তার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো গত বছরের টুর্নামেন্টে সম্পূর্ণ উপস্থিত। অতএব মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও