বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
দেশ 'ক'-এর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ায় বাজারে টাকার যোগান হঠাৎ অনেক বেড়ে যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকে। এদিকে 'সঞ্চয় ব্যাংক লিমিটেড' হঠাৎ আর্থিক সংকটে পড়ে এবং অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হয়। তখন ব্যাংকটি দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়, যে প্রতিষ্ঠান দেশের সব ব্যাংকের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে।
- ক)(1)
'বিহিত মুদ্রা' কী?
- খ)(2)
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিকাশঘর বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত বাজারে দাম বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ভূমিকা রাখতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কেন্দ্রীয় ব্যাংক না থাকলে উদ্দীপকের 'সঞ্চয় ব্যাংক লিমিটেড' ও দেশের অর্থব্যবস্থা কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত মুদ্রাই দেশের বিহিত মুদ্রা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্যে চেক আদান-প্রদানের ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দেনা-পাওনা সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেয়। অর্থাৎ বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব একটি স্থানে সমন্বয় করার কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক করে। এ কারণে একে নিকাশঘর বা ক্লিয়ারিং হাউস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অতিরিক্ত ঋণের কারণে মুদ্রার যোগান বেড়ে গেছে। এর ফলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।
এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা পালন করতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মূলধনের নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই জমার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বাজারে মুদ্রার যোগান কমে এবং চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমতা আসে। এভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সঞ্চয় ব্যাংক লিমিটেড সংকটে পড়ে অন্য উৎস থেকে ঋণ না পেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা হিসেবে ঋণ দিয়ে ব্যাংকটিকে রক্ষা করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক না থাকলে সমস্যাগুলো হতো এরূপ:
১. ব্যাংকটির ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি: সংকটে পড়া ব্যাংকের কাছে কোনো চূড়ান্ত আশ্রয় থাকত না। ফলে ব্যাংকটি দেউলিয়া হতো এবং আমানতকারীরা তাদের টাকা হারাতেন।
২. ব্যাংকব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়া: একটি ব্যাংকের পতন অন্য ব্যাংকগুলোর ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করত।
৩. ঋণ ও মুদ্রা নিয়ন্ত্রণহীন হওয়া: কেউ বাণিজ্যিক ব্যাংকের অতিরিক্ত ঋণ নিয়ন্ত্রণ না করলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তেই থাকত।
৪. আন্তঃব্যাংক লেনদেনে জটিলতা: নিকাশঘরের কাজ না থাকায় ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি কঠিন হতো।
অতএব, দেশের অর্থব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ও ব্যাংকব্যবস্থার নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপস্থিতি অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও