ইতিহাস ২য় পত্র • বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্যারিস্টার কামাল সাহেব একটি মামলার কাজে বিদেশে যান। প্রথম শ্রেণির টিকেট থাকা সত্ত্বেও রাতে একটি স্টেশনে এক শ্বেতাঙ্গ যাত্রী তাঁর গায়ের রং দেখে তাঁকে নিম্নশ্রেণির কামরায় যেতে বলেন। প্রতিবাদ করায় তাঁকে মালপত্রসহ প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ অপমান তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি সেখানকার অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের সংগঠিত করে অন্যায় আইনের বিরুদ্ধে অহিংস পথে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন।
- ক)(1)
‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন কে শুরু করেন?
- খ)(2)
গান্ধীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘কুলি ব্যারিস্টার’ বলা হতো কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কামাল সাহেবের ঘটনা গান্ধীর জীবনের কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামে সত্যাগ্রহ আন্দোলন ছিল অপরিসীম শক্তিশালী ও কার্যকর’—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী আইনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন শুরু করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে গান্ধী ‘দাদা আব্দুল্লাহ কোম্পানির’ মামলা লড়তে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে শ্বেতাঙ্গ শাসকরা ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি পশুর মতো আচরণ করত। রেলপথ নির্মাণের জন্য ভারত থেকে শ্রমিক আনা হয়েছিল বলে ভারতীয়দের তারা অবজ্ঞাভরে ‘কুলি’ বলত। এই বর্ণবৈষম্যের মনোভাব থেকে ব্যারিস্টার হওয়া সত্ত্বেও গান্ধীকে তারা ‘কুলি ব্যারিস্টার’ এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ‘কুলি ব্যাপারী’ বলে ডাকত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কামাল সাহেবের ঘটনা গান্ধীর জীবনের মারিজবার্গ স্টেশনের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আব্দুল্লাহ শেঠের মামলার কাজে প্রিটোরিয়া যাওয়ার পথে গান্ধী প্রথম শ্রেণির যাত্রী হিসেবে যাত্রা করেন। রাত ৯টায় ট্রেন মারিজবার্গ স্টেশনে থামলে এক শ্বেতাঙ্গ যাত্রী তাঁর শ্যামলা গায়ের রং দেখে তাঁকে তৃতীয় শ্রেণিতে যেতে বলেন। গান্ধী প্রতিবাদ করলে পুলিশের সহায়তায় তাঁকে মালপত্রসহ স্টেশন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ অপমান তাঁকে বিচলিত করে এবং তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস গঠনের মাধ্যমে ভারতীয়দের সংগঠিত করেন।
উদ্দীপকেও কামাল সাহেব প্রথম শ্রেণির টিকেট থাকা সত্ত্বেও গায়ের রঙের কারণে স্টেশনে অপমানিত হন এবং অভিবাসীদের সংগঠিত করে অহিংস লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাই উভয় ঘটনায় মিল স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের কামাল সাহেব অহিংস পথে অন্যায় আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন, যা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের আদর্শ প্রতিফলিত করে। এই আন্দোলনের কার্যকারিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পটভূমি: ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ‘এশিয়াটিক ল অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স’ বা ‘কালো আইন’ পাস করে। এতে ট্রান্সভালের ভারতীয়দের নাম নথিভুক্ত করে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল এবং সনদ দেখাতে না পারলে জরিমানা ও জেলের বিধান ছিল। ব্রিটিশ সরকারের কাছে আপত্তি জানিয়ে ফল না পেয়ে গান্ধী নতুন করে অহিংস আন্দোলনের ডাক দেন।
২. সংগঠন ও পদ্ধতি: আড়াই লক্ষ ভারতীয়কে সংগঠিত করে তিনি এর নাম দেন ‘সত্যাগ্রহ’। সত্যাগ্রহীরা অন্যায্য আইন না মানার সংকল্প নেয়, তবে আন্দোলন হবে অহিংস, প্রতিশোধের নয়।
৩. দমন সত্ত্বেও অবিচলতা: সরকার গান্ধীকে কয়েকবার কারারুদ্ধ করলেও আন্দোলন থামেনি।
৪. সাফল্য: দীর্ঘ আট বছর পর আন্দোলন সফল হয় এবং বর্ণবাদী সরকার ভারতীয়দের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে বাধ্য হয়।
৫. প্রভাব: এই আন্দোলনের মাধ্যমে গান্ধী বিশ্বে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সমাদৃত হন এবং পরবর্তীকালে এ আদর্শ মার্টিন লুথার কিং ও ম্যান্ডেলার মতো নেতাদের অনুপ্রাণিত করে।অতএব, অস্ত্র ছাড়াই শক্তিশালী শাসকগোষ্ঠীকে নমনীয় করতে পারায় সত্যাগ্রহ আন্দোলনকে অপরিসীম শক্তিশালী ও কার্যকর রাজনৈতিক আন্দোলন বলা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও