জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

ঝুমার বয়স ৩ বছর। গ্রামের পুকুরের পানি পান করার পর তার দিনে ৫ বার পাতলা পায়খানা হয় এবং সে বারবার বমি করে। তার মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে গেছে, চোখ বসে গেছে এবং সে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ঝুমার মা ঘরে চালের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে স্যালাইন তৈরি করলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় অপরিষ্কার হাতে খাবার খায়।

  1. ক)

    ডায়রিয়া কখন হয়েছে বলে মনে করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ডায়রিয়া হলে দেহে পানি ও লবণের স্বল্পতা দেখা দেয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ঝুমার মায়ের তৈরি স্যালাইনটি কীভাবে তৈরি করা হয় এবং এটি খাওয়ানোর সময় কী কী বিষয় মনে রাখতে হবে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে ঝুমার রোগটির বিস্তারের কারণ ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দিনে অন্তত তিনবার পাতলা পায়খানা হলে ডায়রিয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডায়রিয়ায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয় এবং অনেক সময় বমিও হয়। এর সাথে রোগীর দেহ থেকে প্রচুর পানি এবং লবণ বেরিয়ে যায়। রোগী খাবার ও পানীয় ঠিকমতো খেতেও চায় না, ফলে ক্ষয় পূরণ হয় না। এ কারণে দেহে পানি ও লবণের স্বল্পতা দেখা দেয়, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও হতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঝুমার মা শস্য স্যালাইন তৈরি করেছেন। এটি তৈরির নিয়ম: এক লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম চালের গুঁড়া ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে স্যালাইন বানানো হয়।

    স্যালাইন খাওয়ানোর সময় মনে রাখতে হবে:
    ১. পাতলা পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
    ২. রোগীর বমি হলেও স্যালাইন খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না।
    ৩. শিশু রোগীকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
    ৪. রোগীকে নিয়মিত অন্যান্য খাবারও খেতে হবে।
    ৫. ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ বাড়তি খাবার দিতে হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঝুমার রোগটি হলো ডায়রিয়া, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া প্রভৃতি জীবাণু দ্বারা হয়।

    বিস্তারের কারণ:
    ১. ঝুমা পুকুরের দূষিত পানি পান করেছে। দূষিত পানিতে ডায়রিয়ার জীবাণু থাকে।
    ২. পরিবারের সদস্যরা অপরিষ্কার হাতে খাবার খায়। এতে হাত থেকে জীবাণু খাবারের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।
    ৩. এছাড়া বাসি-পচা বা নোংরা খাবার ও অপরিচ্ছন্ন থালা-বাসন এ রোগ ছড়ায়।

    প্রতিরোধের উপায়:
    ১. বিশুদ্ধ ও ফোটানো পানি পান করতে হবে।
    ২. খাবার আগে এবং পায়খানার পর হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুতে হবে।
    ৩. বাসি-পচা খাবার না খাওয়া এবং থালা-বাসন পরিষ্কার রাখা।
    ৪. স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা।
    ৫. রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত খাবার স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করতে হবে।

    এসব ব্যবস্থা মেনে চললে ঝুমার পরিবারে ডায়রিয়ার বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও